ফের একবার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ‘দাদাগিরি’ শুরু করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারতসহ ১৬টি দেশের বিরুদ্ধে ‘অন্যায্য বাণিজ্য নীতি’র অভিযোগ তুলে বিশেষ তদন্তের নির্দেশ দিল ট্রাম্প প্রশাসন। বুধবার হোয়াইট হাউস স্পষ্ট জানিয়েছে, নিয়ম না-মেনে আন্তর্জাতিক বাজারে কম দামে পণ্য ছেড়ে মার্কিন বাজার নষ্ট করার চেষ্টা করছে এই দেশগুলি।
তদন্তের নেপথ্যে কী? মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (USTR) জেমিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, ১৯৭৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের ৩০১ নম্বর অনুচ্ছেদ (Section 301) অনুযায়ী এই তদন্ত শুরু হয়েছে। আমেরিকার অভিযোগ, ভারত, চীন, বাংলাদেশ, জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো দেশগুলি তাদের উৎপাদন ক্ষমতা এমনভাবে বাড়িয়েছে যা বাজার চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি। এই ‘অতিরিক্ত উৎপাদন’ বা ‘এক্সেস ক্যাপাসিটি’ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ভারসাম্য নষ্ট করছে।
সুপ্রিম কোর্টের ধাক্কা এড়াতে নতুন চাল: উল্লেখ্য, গত মাসেই ট্রাম্পের পূর্ববর্তী শুল্ক নীতিকে ‘বেআইনি’ বলে বাতিল করে দিয়েছিল আমেরিকান সুপ্রিম কোর্ট। তবে দমে যাওয়ার পাত্র নন ট্রাম্প। আদালতের রায় এড়াতে এবার তিনি ১২২ নম্বর ধারায় ১০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছেন, যা শীঘ্রই বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ৩০১ অনুচ্ছেদের তদন্তে যদি অনিয়ম ধরা পড়ে, তবে এই ১৬টি দেশের পণ্যের ওপর আকাশছোঁয়া আমদানি শুল্ক চাপানো হতে পারে।
তদন্তের আওতায় থাকা দেশগুলি: ভারত ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছে—চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, বাংলাদেশ, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, সুইৎজারল্যান্ড, নরওয়ে, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম এবং মেক্সিকো।
বিশেষজ্ঞদের মত: অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আসন্ন নির্বাচনের আগে ঘরোয়া উৎপাদনের বাজার সুরক্ষিত রাখতেই ট্রাম্প এই কড়া অবস্থান নিচ্ছেন। তবে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে সম্প্রতি হওয়া বাণিজ্য চুক্তিতে কৃষিপণ্যে যে সুবিধা মিলেছিল, এই নতুন তদন্তের ফলে সেই ভবিষ্যৎ এখন প্রশ্নের মুখে।