সূর্যে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, ১০ লক্ষ মাইল বেগের প্লাজমা ঢেউ কি ধ্বংসলীলা চালাবে?

পৃথিবীর দিকে দ্রুত গতিতে ধেয়ে আসছে এক ভয়ংকর ‘সৌর সুনামি’ (Solar Tsunami)। সূর্যের বুকে একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণের জেরে মহাকাশের আবহাওয়ায় চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, অতি উত্তপ্ত প্লাজমার বিশাল এক ঢেউ এখন পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে। এর ফলে পৃথিবীতে মৃদু থেকে শুরু করে অত্যন্ত শক্তিশালী ভূচৌম্বকীয় ঝড় আছড়ে পড়তে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সৌরঝড় ও করোনাল মাস ইজেকশনের আশঙ্কা: মহাকাশ আবহাওয়া সংক্রান্ত পূর্বাভাস জানাচ্ছে, চলতি মাসের ৯ থেকে ১১ তারিখের মধ্যে পৃথিবীর চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের ওপর আঘাত হানতে পারে পরপর তিনটি করোনাল মাস ইজেকশন (CME)। সূর্যের এই ভয়ানক বিস্ফোরণের ফলে বিপুল পরিমাণ আধানযুক্ত কণা এবং চৌম্বকীয় ক্ষেত্র মহাকাশে ছড়িয়ে পড়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই ঝড়ের তীব্রতা জি-ওয়ান (G1) বা মৃদু থেকে শুরু করে জি-থ্রি (G3) বা শক্তিশালী স্তর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
সূর্যের বুকে কেন এই ভয়ঙ্কর সুনামি? গত ৮ অক্টোবর হঠাৎ করেই অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে সূর্য। ওই দিন ‘সানস্পট ৪৫৪৯’ (Sunspot 4549) নামক সৌরকলঙ্ক থেকে একটি তীব্র বিস্ফোরণ ঘটে, যার ফলে এম-সিক্রেট সেভেন (M6.7) শ্রেণির একটি সোলার ফ্লেয়ার তৈরি হয়। বিজ্ঞানীদের পরিভাষায় একে ‘মোরটন ওয়েভ’ বা সৌর সুনামি বলা হয়। সূর্যের বায়ুমণ্ডলে উত্তপ্ত প্লাজমা এবং চৌম্বকীয় শক্তির এই বিশাল তরঙ্গ প্রতি ঘণ্টায় ১০ লক্ষ মাইলেরও বেশি বেগে ছড়িয়ে পড়ে, যা পৃথিবীর আকারের থেকেও বিশাল হতে পারে।
সপ্তাহান্তে আকাশে অরোরা বা মেরুজ্যোতির চমক: এই সৌরঝড়ের জেরে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ওপর প্রভাব পড়ায় চলতি সপ্তাহের শেষে রাতের আকাশে অপূর্ব সুন্দর মেরুজ্যোতি বা অরোরা (Aurora) দেখা যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। যেহেতু এখন অমাবস্যার কাছাকাছি সময়, তাই রাতের আকাশ অন্ধকার থাকায় এই আলোকচ্ছটা আরও স্পষ্ট ও মনোমুগ্ধকর হয়ে উঠতে পারে।
কোন কোন বড় ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে? তবে এই সৌরঝড়ের প্রভাব শুধু আকাশের আলোর খেলায় সীমাবদ্ধ থাকছে না। বিজ্ঞানীদের মতে, এর জেরে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে—
কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থায়।
নেভিগেশন ও জিপিএস (GPS) নেটওয়ার্কে।
হাই ফ্রিকোয়েন্সি রেডিও কমিউনিকেশন এবং কিছু ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায়।
শেষ পর্যন্ত এই সৌরঝড় কতটা মারাত্মক রূপ নেবে, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা সিএমই (CME)-গুলির গতিবেগ এবং চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের অভিমুখের ওপর। পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন বিশ্বজুড়ে মহাকাশ বিজ্ঞানীরা।