ফাঁসির মঞ্চে ওঠার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে জেলের ভেতর রোমহর্ষক বিয়ে! তারপর যা ঘটল, শুনলে শিউরে উঠবেন

ইরানের ইসফাহান সেন্ট্রাল জেলে গত ৫ অক্টোবর এক হৃদয়বিদারক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে, যা সারা বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত ২৫ বছর বয়সি আলিরেজা সেপাহি ফাঁসির দড়িতে ঝোড়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে জেলের ভেতরেই বিয়ে করেন তাঁর দীর্ঘদিনের প্রেমিকা ২২ বছর বয়সি মাশাদ কেশানিকে। গত ৮ জানুয়ারি আলিখানি স্কোয়ারে সরকারবিরোধী আন্দোলনে একসঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন এই যুগল। সেই থেকেই তাঁরা পৃথক জেলে বন্দি ছিলেন এবং পরস্পরের মুখ দেখার সুযোগও পাননি।

মানবাধিকার কর্মী তথা আইনজীবী আমিরসালার দাবৌদির মধ্যস্থতায় এই অদ্ভুত ও মর্মান্তিক বিয়ের আয়োজন করা হয়। জেলের ফোন ব্যবহার করে দুই পরিবারের বড়দের আশীর্বাদ নিয়ে তাঁরা একে অপরকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেন। মাশাদের পরিবারের পক্ষ থেকে পণ হিসেবে সেপাহিকে পবিত্র কোরান, মিষ্টি এবং গোলাপ ফুল দেওয়া হয়। আইনজীবী দাবৌদি জানান, সেপাহি প্রথমে বুঝতে না পেরে দ্বিধায় থাকলেও মাশাদের প্রবল ইচ্ছের কাছে হার মানেন। বিয়ের পর অঝোরে কেঁদেছিলেন সেপাহি, এমনকি জেলের কঠিন হৃদয়ের আধিকারিকরাও এই ঘটনায় চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি।

তবে এই ভালোবাসার দীর্ঘস্থায়িত্ব হয়নি। বিয়ের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই গত সোমবার ভোরে আলিরেজা সেপাহিকে ফাঁসি দেওয়া হয়। একই মামলায় আলিরেজা রইসি নামের অপর এক যুবককেও ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। আন্দোলনস্থল থেকে গ্রেফতার হওয়া মাশাদ এখনও কঠোর নিরাপত্তায় জেলের ভেতরেই বন্দি রয়েছেন। এই ঘটনার পর মানবাধিকারমহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty