কেন বাইরে রাখলেন আনোয়ারকে? ডার্বি হারে কোচ হাবাসের কৌশল নিয়ে বড় প্রশ্ন তুললেন ক্ষুব্ধ সমর্থকরা!

কলকাতায় ফের সবুজ-মেরুনের জয়জয়কার! প্রথমে কলকাতা লিগ এবং এবার আইএফএ শিল্ড— গত বছর থেকে শুরু করে টানা দুটো আইএফএ শিল্ড ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হলো মোহনবাগান। গতকাল আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে মোহনবাগানের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করেছে ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচের একমাত্র ও জয়সূচক গোলটি করেছেন সমীর জেলকোভিচ। হারের পর ইস্টবেঙ্গল কোচ সংবাদ সম্মেলন বয়কট করলেও, ডার্বির এই পরাজয়ের পিছনে একাধিক গুরুতর কারণ খুঁজে বের করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছিল দলের একাদশ নির্বাচন নিয়ে। এ মুহূর্তে দেশের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার আনোয়ার আলি কেন প্রথম একাদশে ছিলেন না, তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন লাল-হলুদ সমর্থকরা। হাবাস যতই এএফসি কাপ ও জাতীয় দলের দোহালাই দিন না কেন, অভিজ্ঞ ডিফেন্ডারের অনুপস্থিতি যে বাগান আক্রমণকে বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দিয়েছিল, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। আনোয়ার থাকলে সবুজ-মেরুন ফরোয়ার্ডরা অত সহজে ইস্টবেঙ্গল বক্সে হানাদারি চালাতে পারত না। পাশাপাশি, সেমিফাইনালে নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে ৭ গোল দেওয়ার পর দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসও হারের অন্যতম বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
পুরো ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল গোলমুখী আক্রমণ শানাতে পেরেছে মোটে পাঁচটি। যার মধ্যে প্রথমার্ধে এডমুন্ডের দারুণ সুযোগটি দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন গোলরক্ষক বিশাল কাইথ। অন্যদিকে, মোহনবাগানের হয়ে অদম্য লড়াইয়ের এক অনন্য নজির গড়লেন ডেজান ড্র্যাজিচ। ৫৫ মিনিটে সন্দীপ মান্ডির সঙ্গে সংঘর্ষে তাঁর মাথা ফেটে রক্তপাত শুরু হলেও তিনি মাঠ ছাড়েননি। মাথায় ৭টি সেলাই পড়ার পরেও পুরো ম্যাচ খেলে জয়ের ভিত শক্ত করেন তিনি। ম্যাচ শেষে বাগান কোচ প্যানোস রসিকতা করে বলেন, “ওর মাথা ফাটার পর ও আরও ভালো খেলেছে।” অনেকে মনে করছেন, এই শিল্ড জয় কোচ প্যানোসের চাকরি কার্যত বাঁচিয়ে দিল। যদিও কোচের স্পষ্ট বক্তব্য, বাইরের সমালোচনা নিয়ে তাঁর মাথা ব্যথা নেই। এই আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করেই মাত্র তিন দিন বাদেই নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে অ্যাওয়ে ম্যাচ দিয়ে আইএসএল অভিযান শুরু করতে চলেছে মোহনবাগান।