মধ্যমগ্রামের বিরেশপল্লির ভাড়া বাড়িতে সংঘটিত নৃশংস ‘পিশি-শাশুড়ি’ খুন মামলায় দোষী সাব্যস্ত মা-মেয়ে, আরতি ঘোষ ও ফাল্গুনী ঘোষের সাজা ঘোষণা হলো সোমবার। বারাসতের সপ্তম অতিরিক্ত জেলা আদালতের বিচারক প্রজ্ঞা গার্গী ভট্টাচার্য হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন। আদালত জানায়, দু’জনেই পরিকল্পিতভাবে খুন করে দেহ লোপাটের চেষ্টা করেছিলেন।
🔪 নৃশংসতা: পা কেটে দেহ লোপাটের চেষ্টা
২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় মধ্যমগ্রাম থানা এলাকার বিরেশপল্লির একটি ভাড়া বাড়িতে খুন হন সুমিতা ঘোষ। তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ নৃশংসতা উঠে আসে:
খুনের পদ্ধতি: অভিযোগ, প্রথমে ইট ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে সুমিতার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করে খুন করা হয়।
প্রথম চেষ্টা: খুনের পর মৃতদেহ লুকোনোর জন্য একটি ছোট ট্রলি ব্যাগে ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ব্যাগ ছোট হওয়ায় পা দু’টো বাইরে বেরিয়ে থাকে। সেই অবস্থাতেই সারারাত লাশ ঘরে পড়েছিল।
দ্বিতীয় চেষ্টা: পরদিন সকালে মা ও মেয়ে কলকাতায় গিয়ে নতুন একটি বড় নীল ট্রলি ব্যাগ কিনে ফের মধ্যমগ্রামে ফিরে আসে। সেই রাতে লাশটি নতুন ব্যাগে ভরতে গিয়ে হাঁটুর নীচ থেকে পা কেটে ফেলা হয় বলে তদন্তে প্রকাশ পায়।
💰 গয়না কেনা ও ধরা পড়া
তদন্তে জানা যায়, খুনের পর আরতি ও ফাল্গুনী কলকাতায় গিয়ে মৃতা সুমিতার ফোনপে ব্যবহার করে গয়না কেনা, টাকা তোলা এবং হোটেলে খাওয়া-দাওয়ার মতো কাজ করেছিলেন।
২৫ ফেব্রুয়ারি ভোরে মৃতদেহ সমেত নতুন নীল ট্রলি ব্যাগটি নিয়ে তারা কুমারটুলি ঘাটের দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু স্থানীয়দের সন্দেহ হওয়ায় দুজনকেই ব্যাগ-সহ হাতেনাতে ধরে ফেলে উত্তর বন্দর থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
⚖️ আদালতের রায়
ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা দা, বঁটি, হাতুড়ি ও আধলা ইট উদ্ধার হয়, যা ফরেনসিক রিপোর্টে খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র হিসাবে নিশ্চিত করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০ মে ২০২৫ তারিখে পুলিশ মা-মেয়ের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে।
৩০ অক্টোবর আদালত দুজনকেই দোষী সাব্যস্ত করে। অবশেষে সোমবার এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাজা ঘোষণা করা হলো। স্থানীয়রা এই ঘটনাকে ‘এত নির্মম’ বলে মন্তব্য করে বলেন, মা-মেয়ে মিলে এমন কাণ্ড ঘটাতে পারে তা বিশ্বাস করা কঠিন।