সোমবার বিকেলে কলকাতার পাঁচতারা হোটেলে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল তৃণমূলের তিন প্রতিনিধি— চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ফিরহাদ হাকিম ও রাজীব কুমার। কিন্তু বৈঠক শেষে বেরিয়েই সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ উগরে দেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, বৈঠক চলাকালীন সিইসি জ্ঞানেশ কুমার তাঁর সঙ্গে অত্যন্ত রূঢ় আচরণ করেছেন এবং চিৎকার করতে বারণ করে তাঁকে অপমান করেছেন।
চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের বিস্ফোরক অভিযোগ
বৈঠক শেষে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা ভোটারদের অধিকার রক্ষায় সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছি বলে বাবুদের খুব রাগ হয়েছে! জ্ঞানেশ কুমার আমায় বলছেন, ‘চিৎকার করবেন না’ (Don’t Shout)। আমি একজন মহিলা প্রতিনিধি, আমায় এভাবে বলতে পারেন না উনি। আমি বিনম্রভাবেই বলেছি বৈধ ভোটারদের অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না। মহিলাদের প্রতি ওঁর কোনও শ্রদ্ধা নেই, আমরা এটা দেখে নিচ্ছি।”
ফিরহাদ হাকিমের তোপ: ‘বিজেপির ন্যারেটিভ’
মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এদিন সরাসরি বিজেপি এবং কমিশনকে একযোগে আক্রমণ করেন। তাঁর বক্তব্য:
-
অনুপ্রবেশকারী তত্ত্ব: বিজেপি বাংলায় ‘অনুপ্রবেশকারী’ ও ‘রোহিঙ্গা’ নিয়ে যে মিথ্যা ন্যারেটিভ তৈরি করেছে, দুই মাসের এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় তার একটিও প্রমাণ মেলেনি।
-
নাগরিক হেনস্থা: এই প্রক্রিয়ার নামে হাজার হাজার সাধারণ মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়ে হেনস্থা করা হয়েছে। এমনকি লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
-
ভোটাধিকার: ফিরহাদ স্পষ্ট জানান, “দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলো নিজেদের ভারতীয় প্রমাণ করতে কাজ ফেলে লাইনে দাঁড়িয়েছে। কোনও ভারতীয় নাগরিক যেন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়। সেটা হলে তা হবে অসাংবিধানিক।”
কত দফায় ভোট? ধোঁয়াশা বজায় রাখল তৃণমূল
বিজেপি যেখানে এক দফায় এবং বামেরা সর্বোচ্চ দুই দফায় ভোটের দাবি জানিয়েছে, সেখানে তৃণমূল কত দফায় ভোট চাইছে— সেই প্রশ্নের উত্তর এদিন কৌশলে এড়িয়ে গিয়েছেন দলের প্রতিনিধিরা। তাঁদের মূল ফোকাস ছিল ভোটার তালিকা সংশোধন এবং কমিশনের ‘আচরণ’ নিয়ে প্রতিবাদ জানানো।
উল্লেখ্য, কমিশনের ফুল বেঞ্চের এই সফরের মধ্যেই শাসকদলের এমন সরাসরি সংঘাত বাংলার নির্বাচনী আবহাওয়াকে আরও তপ্ত করে তুলল। এখন প্রশ্ন, ১২ মার্চের সম্ভাব্য ভোট ঘোষণার আগে এই তিক্ততা কোন পর্যায়ে পৌঁছায়?