সুদিন’-এর ১২ বছরে থলে ভর্তি করে সবজি কেনার স্বপ্ন শেষ! জিনিসপত্রের আগুন দামে বিস্ফোরক মল্লিকার্জুন খাড়গে!

দেশের ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং লাগামছাড়া দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন কংগ্রেসের জাতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তাঁর সাফ কথা, বিগত ১২ বছর ধরে কেন্দ্র ক্ষমতায় থাকার পর দেশের ‘সুদিন’ এমন এক পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে যেখানে কখনও ডাল, কখনও শাকসবজি, ভোজ্যতেল কিংবা চিনির চড়া দাম সাধারণ মানুষের মাসকাবারি বাজেট সম্পূর্ণভাবে তছনছ করে দিচ্ছে। খাড়গের অভিযোগ, গোটা দেশ যখন তীব্র মুদ্রাস্ফীতিতে ধুঁকছে, তখন শাসক দল বিজেপি সাধারণ মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য নানা কৌশল ও ভিত্তিহীন কথাবার্তার আশ্রয় নিচ্ছে। তবে জনগণের অধিকার রক্ষার্থে কংগ্রেস মুদ্রাস্ফীতির মতো জনস্বার্থের ইস্যু নিয়ে প্রশ্ন তুলে যাব। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে করা একটি সুনির্দিষ্ট টুইটে পেঁয়াজ, চিনি, তেল ও ময়দাসহ একাধিক নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামছাড়া দাম বৃদ্ধির পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন তিনি।
খাড়গের পেশ করা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৩ সালের মে মাসের সঙ্গে ২০২৬ সালের আগস্ট মাসের বর্তমান বাজারদরের তুলনা টানলে আকাশ-পাতাল তফাৎ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ১৩ বছর আগের তুলনায় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। এই বিশাল ব্যবধানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শাকসবজি এবং অতিপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যগুলি। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৩ সালে যে টমেটোর কেজি প্রতি দাম ছিল মাত্র ১৭ টাকা ৫০ পয়সা, তা বেড়ে এখন হয়েছে ১২০ টাকা, অর্থাৎ সরাসরি ৫৮৫ শতাংশ ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটেছে। একইভাবে, ময়দার দাম প্রতি কেজিতে ২১ টাকা থেকে বেড়ে ৬৯ টাকায় পৌঁছেছে (২২৮ শতাংশ বৃদ্ধি), এবং পেঁয়াজের দাম ২৩ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৭৩ টাকা (২১৭ শতাংশ বৃদ্ধি)। এছাড়া সর্ষের তেলের দাম ১০২ টাকা থেকে লাফিয়ে ২৬৩ টাকায় দাঁড়িয়েছে (১৫৭ শতাংশ বৃদ্ধি)। পাশাপাশি তুর, উড়দ ও ছোলার মতো বিভিন্ন ডালে গড়ে ১৪০ থেকে ১৫৩ শতাংশ পর্যন্ত দাম বেড়েছে।
শুধু সবজি বা তেল নয়, দুধ, চিনি এবং ডালের মতো প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় বহু জিনিসের দাম দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে গেছে। মল্লিকার্জুন খাড়গে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, যখনই সাধারণ মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার ও মূল্যবৃদ্ধির জ্বালা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তখনই শাসক দলের তরফ থেকে উদ্ভট মন্তব্য ও রাজনৈতিক কৌশলে সেই সমস্ত গুরুতর প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। কংগ্রেস সভাপতির দাবি, এই পরিসংখ্যানগুলি জলের মতো পরিষ্কার করে দিচ্ছে যে শুধু ফাঁকা প্রতিশ্রুতি বা প্রচার দিয়ে দেশ চলে না; দেশের খেটে খাওয়া মানুষের এখন রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট সমাধান ও বাস্তব প্রতিকার প্রয়োজন।