নেপালে ভয়ংকর তুষারধস ও বন্যায় নিখোঁজ ৩০০-র বেশি ভারতীয়! কী অবস্থা এখন?

নেপালের হিমালয় সংলগ্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় হঠাৎ নেমে আসা ভয়াবহ বন্যা ও ধসের কারণে পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকায় তিনশতেরও বেশি ভারতীয় নাগরিক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে বন্যাদুর্গত দুর্গম অঞ্চলগুলিতে উদ্ধারকাজ জোরকদমে চলছে।

গত বুধবার নেপাল-তিব্বত সীমানার কাছে আকস্মিক বরফ ও বিশাল পাথরের চাঁই ধসে পড়ার ফলে এই ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। এর জেরে বিপুল পরিমাণ জল, কাদামাটি ও বিশাল পাথর গড়িয়ে ভৈতে কোশী এবং ত্রিশূলী নদী প্রণালীতে আছড়ে পড়ে। এই মর্মান্তিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে নেপালে অন্তত ১৬২ জন এবং চিনে ৩ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে, আর শত শত মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। ধ্বংসলীলার ব্যাপ্তি এতটাই বিশাল যে অনেক বিপর্যস্ত এলাকায় উদ্ধারকারী দলগুলির পক্ষে পৌঁছানোই অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তাঘাট ও সেতু ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে এবং সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা।

তামিলনাড়ুর ৩৭ পর্যটক ও ইশা ফাউন্ডেশনের ৭৭ জন সদস্য নিখোঁজ:
হিমালয়ের কোলে কৈলাস মানসরোবর যাত্রায় যাওয়া বহু পুণ্যার্থীসহ ১৩০ জনেরও বেশি ভারতীয় হঠাৎ এই বিপর্যয়ের কবলে পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে নিখোঁজ রয়েছেন। নেপাল সরকারের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে। কাঠমান্ডুর ভারতীয় দূতাবাস এবং তামিলনাড়ু, কেরালা, রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ ও ওড়িশা সহ বিভিন্ন রাজ্য সরকার ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয়দের সাহায্যার্থে বিশেষ হেল্পলাইন চালু করেছে। সম্রাট ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেল এজেন্সি জানিয়েছে যে নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৫৯ জন কৈলাস মানসরোবর যাত্রার তীর্থযাত্রী। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় সঠিক তথ্য পেতে বেগ পেতে হচ্ছে।

বিভিন্ন রাজ্যের ভূমিকা ও উদ্ধার তৎপরতা:
তামিলনাড়ু থেকে যাওয়া ৫৭ জন পর্যটকের মধ্যে ৩৭ জনের এখনও কোনো খোঁজ মেলেনি, তবে ২০ জন নিরাপদ রয়েছেন। কোয়েম্বাটুরের ইশা ফাউন্ডেশন জানিয়েছে যে তাদের ৭৭ জন সদস্য ইমিগ্রেশন সেন্টারে থাকার সময় থেকেই নিখোঁজ। সদগুরু জানিয়েছেন, ওই কেন্দ্রে থাকা কারো সাথেই যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে, উত্তর প্রদেশের বেশ কিছু নাগরিকও সেখানে আটকে পড়েছেন। প্রবীণ কৃষক নেতা রাকেশ তিকায়েত পোখরায় আটকে রয়েছেন এবং ভিডিও বার্তার মাধ্যমে পরিস্থিতি জানিয়েছেন। উত্তর প্রদেশ সরকারও হেল্পলাইন নম্বর ১০৭০ চালু করেছে। মহারাষ্ট্রের ৭ জন পর্যটকের মধ্যে ৪ জন নিরাপদ থাকলেও বাকি ৩ জনের খোঁজ চলছে। কেরালা সরকার ‘নোর্কা-রুটস’-এর মাধ্যমে বিশেষ সাহায্য ডেস্ক খুলেছে। সিকিম, ওড়িশা, উত্তরাখণ্ড এবং ছত্তিশগড় সরকারও নিজ নিজ রাজ্যের নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন এবং কন্ট্রোল রুম চালু করেছে। কাঠমান্ডুতে ভারতীয় দূতাবাসও দুটি জরুরি হেল্পলাইন নম্বর (+৯৭৭ ৯৮৫ ১৩১ ৬৮০৭ এবং +৯৭৭ ৯৭০ ৯১০ ৭৫০০) চালু করেছে।