সরকারি চাকরি করেও ভারত বিরোধী মন্তব্য! এফসিআই কর্মীর ভাইরাল ভিডিও ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক!

জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিতে ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া বা এফসিআই (FCI)-এর এক মহিলা কর্মীকে ভারত ও জম্মু ও কাশ্মীর সম্পর্কে অত্যন্ত আপত্তিকর ও দেশবিরোধী মন্তব্য করতে শোনা যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই গুরুতর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এফসিআই কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সরকারি পদে থেকে এই ধরণের বিচ্ছিন্নতাবাদী মানসিকতা ও বিতর্কিত বক্তব্য নিয়ে জনমানসে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত একটি ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে। যদিও এই ভিডিওটির সত্যতা, তাতে শোনা যাওয়া কণ্ঠস্বর এবং দৃশ্যমান মহিলার পরিচয়ের এখনও কোনো স্বাধীন বা নিরপেক্ষ সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবুও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে এফসিআই প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মীকে দ্রুত কারণ দর্শানোর নোটিশ বা শো-কজ (Show-cause notice) করা হবে বলে জানানো হয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরেই পরিষ্কার হবে যে ভিডিওতে থাকা মহিলা সত্যিই এফসিআই-এর কর্মী কি না এবং তাঁর কণ্ঠস্বরই ওই ভিডিওর সঙ্গে যুক্ত কি না।

ভাইরাল ভিডিওর মূল বিষয়বস্তু অনুযায়ী, ওই মহিলাকে বলতে শোনা যায় যে সরকারি চাকরি করার অর্থ এই নয় যে কেউ দেশের মূলধারার সঙ্গে মিশে গেছেন। তিনি দাবি করেন, তাঁরা যদি কোনো তথাকথিত ‘প্রতিরোধ আন্দোলন’-এর অংশ হন, তবে তার মানে এই নয় যে তাঁদের মৌলিক মানবিক প্রয়োজন নেই। জীবনযাত্রার তাগিদে এবং ভালো চাকরির সুযোগ পেলে তাঁরা সেই চাকরি গ্রহণ করতেই পারেন। তবে মহিলার সাফ দাবি, এই চাকরি পাওয়ার ফলে ‘ভারত সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বা মনোভাবের’ বিন্দুুমাত্র পরিবর্তন ঘটবে না। তাঁর মতে, কাশ্মীর নিয়ে ভারতের অবস্থান নাকি সম্পূর্ণ অন্যায় এবং তা ভবিষ্যতেও অন্যায়ই থেকে যাবে। পাশাপাশি গত তিন দশকে কাশ্মীরে সংঘটিত বিভিন্ন মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে তিনি অত্যন্ত প্ররোচনামূলক মন্তব্য করেন।

যদিও ভিডিওটির প্রামাণ্যতা নিয়ে এখনো সন্দেহ রয়েছে, তবে যদি তদন্তে এই অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হয়, তবে তা কেবল একজন কর্মীর ব্যক্তিগত মতামতের গণ্ডি ছাড়িয়ে অনেকদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। প্রশ্ন উঠবে সেই মানসিকতা নিয়ে, যা ভারতের সরকারি ব্যবস্থার মধ্যে থেকেও দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানায়। জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ—এই সাংবিধানিক সত্যতাকে অস্বীকার করার নেপথ্যে কী যুক্তি থাকতে পারে? ইতিহাসকে পাশ কাটিয়ে কেবল রাজনৈতিক স্লোগানকে প্রাধান্য দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত? এছাড়া পাক অধিকৃত কাশ্মীর বা পিওকে (PoK)-তে পাকিস্তানি দমনের বিরুদ্ধে যখন সেখানকার সাধারণ মানুষ বিদ্যুৎ সংকট, মুদ্রাস্ফীতি ও রাজনৈতিক অধিকারের দাবিতে রাজপথে নেমে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন, তখন তথাকথিত মানবাধিকারের প্রবক্তারা কেন সম্পূর্ণ নীরব থাকেন?

এই পুরো ঘটনায় এফসিআই-এর মহাব্যবস্থাপক আই.কে. চৌধুরী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, কর্পোরেশন এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। ভিডিওর সত্যতা যাচাই করে এবং কর্মচারীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর উপযুক্ত সার্ভিস রুলস ও আইন অনুযায়ী কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশের করদাতাদের টাকায় বেতন নিয়ে এবং সমস্ত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে দেশের অখণ্ডতার বিরুদ্ধে বিষোদগার করার এই প্রবণতা যে কোনো মূলلেই দমন করা জরুরি, এমনটাই মনে করছে সচেতন মহল।