নিজের ঘরেই কোণঠাসা বয়স্করা! ৪২% ক্ষেত্রে খোদ ছেলেরাই অত্যাচারী, উত্তরপ্রদেশের সমীক্ষায় সামনে এল মর্মান্তিক চিত্র!

উত্তরপ্রদেশের জনসংখ্যার একটি ক্ষুদ্র অংশ প্রবীণ হলেও তাদের জীবনসংগ্রাম ও সংকট দিন দিন অত্যন্ত প্রকট আকার ধারণ করছে। সম্প্রতি হেল্পএইজ ইন্ডিয়ার একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, রাজ্যের প্রবীণ নাগরিকদের প্রায় আট শতাংশই বার্ধক্যে এসে চরম আর্থিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যহীনতা, নিঃসঙ্গতা এবং পরিবারিক অবহেলার শিকার হচ্ছেন। দেশজুড়ে পরিচালিত এই সমীক্ষায় দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারী প্রতি তিনজন বয়স্ক ব্যক্তির মধ্যে প্রায় একজনেরই নিজস্ব কোনো আয়ের উৎস নেই। এর মধ্যে নারীর পরিস্থিতি আরও বেশি উদ্বেগজনক, যেখানে ৩৮ শতাংশ নারীর কোনো নিজস্ব উপার্জন নেই। অন্যদিকে, পুরুষের ক্ষেত্রে এই হার ২৭ শতাংশ। বার্ধক্যের এই পড়ন্ত বেলায় শুধু অর্থের অভাবই নয়, বরং ৪০ শতাংশ প্রবীণ মানুষ সম্পূর্ণ নিরক্ষর হওয়ায় নানা জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন।

আর্থিক সংকটের পাশাপাশি পারিবারিক অসন্তোষ ও বয়স্কদের ওপর মানসিক বা শারীরিক নির্যাতনের চিত্রটি আরও বেশি বেদনাদায়ক। সমীক্ষায় অন্তত ৭ শতাংশ প্রবীণ ব্যক্তি তাঁদের ওপর নির্যাতনের শিকার হওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, এই নির্যাতনের ঘটনায় ৪২ শতাংশ ক্ষেত্রে প্রধান অপরাধী হিসেবে উঠে এসেছে খোদ নিজেদের সন্তানদের নাম এবং ২৮ শতাংশ ক্ষেত্রে পুত্রবধূদের আচরণ দায়ী বলে জানা গেছে। বার্ধক্যে এসে যখন আপনজনদের সেবা ও সাহচর্য পাওয়ার কথা, ঠিক সেই সময়েই এই ধরনের অপমানজনক পরিস্থিতি প্রবীণদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলছে। চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়েও তাদের হিমশিম খেতে হয়। সমীক্ষা অনুযায়ী, গত এক বছরে প্রায় ৭৯ শতাংশ প্রবীণ ব্যক্তি বাধ্য হয়ে সরকারি হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের শরণাপন্ন হয়েছেন, যদিও তাদের মাত্র ৩১ শতাংশ আয়ুষ্মান ভারত বা পিএম-জেএওয়াই প্রকল্পের স্বাস্থ্য বীমার সুবিধা পেয়েছেন।

প্রবীণ নাগরিকদের এই অসহনীয় দুর্গতি লাঘব করতে এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা ও অধিকার সুনিশ্চিত করতে এবার অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ নিতে চলেছে যোগী আদিত্যনাথের সরকার। বয়স্কদের সুরক্ষা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার একটি নতুন বিশেষ ব্যবস্থা এবং ডেডিকেটেড টোল-ফ্রি হেল্পলাইন চালুর ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। নতুন এই আইনি বিধান অনুযায়ী, প্রবীণদের ওপর নির্যাতন বা সম্পত্তি সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ সরাসরি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দপ্তরে দায়ের করা যাবে এবং কঠোর নির্দেশ রয়েছে যে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সেই অভিযোগের শুনানি সম্পন্ন করতে হবে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে এই সমস্ত মামলার একটি নিয়মিত মাসিক প্রতিবেদনও সরকারের কাছে জমা দিতে হবে। সরকারের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপে একদিকে যেমন প্রবীণ নাগরিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা জোরালো হবে, অন্যদিকে অবহেলাকারী পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও আইনি কড়া বার্তা পৌঁছে যাবে।