ফরিদাবাদে পুরোহিত হত্যা মামলার রহস্যভেদ: ক্রাইম ব্রাঞ্চের জালে দুই অভিযুক্ত, চাঞ্চল্যকর মোড় তদন্তে!

হরিয়ানার ফরিদাবাদে এক ৬৫ বছর বয়সি পুরোহিতকে নৃশংসভাবে হত্যার চাঞ্চল্যকর রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। ডিএলএফ ক্রাইম ব্রাঞ্চের একটি চৌকস দল এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। খালেরধারের একটি মন্দিরে মাদক সেবন করতে বারণ করায় ওই পুরোহিতের ওপর চড়াও হয় দুষ্কৃতীরা এবং পাথরের শিলনোড়া দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাঁর প্রাণ কেড়ে নেয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত পুরোহিতের নাম ওম প্রকাশ (৬৫)। গত ৩০ ও ৩১ আগস্টের মধ্যবর্তী রাতে সেক্টর-৩০ বাইপাস রোডের খালের ধারের একটি নির্জন মন্দিরের কাছে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহতের কাকার ছেলে অশোক কুমারের অভিযোগের ভিত্তিতে সেক্টর-৩১ থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়।

যেভাবে ঘটে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, গত ৩০ আগস্ট রাতে অভিযুক্তরা তাদের আরও দুই সঙ্গীকে নিয়ে মন্দিরের আশেপাশে মাদক সেবন করছিল। পুরোহিত ওম প্রকাশ বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাদের কড়া ভাষায় বাধা দেন এবং সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। এরপরই ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা বৃদ্ধ পুরোহিতকে ধাওয়া করে এবং মন্দিরের কাছেই তাঁর ওপর চড়াও হয়। অভিযোগ রয়েছে, হামলার সময় পাথরের শিলনোড়া দিয়ে পুরোহিতের মাথায় উপর্যুপরি মারাত্মক আঘাত করা হয়, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত হয়। ঘটনার পরপরই অভিযুক্তরা নিহতের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র লুঠ করে পালিয়ে যায়।

দুই অভিযুক্ত গ্রেপ্তার, চলছে তল্লাশি

তদন্ত চালিয়ে ডিএলএফ ক্রাইম ব্রাঞ্চ দুই প্রধান অভিযুক্তকে পাকড়াও করতে সক্ষম হয়েছে। ধৃতরা হলো—উত্তর প্রদেশের মথুরার বাসিন্দা ২০ বছর বয়সি আসিফ ওরফে টিটি এবং রাজস্থানের ভরতপুরের বাসিন্দা ৩৪ বছর বয়সি আসিফ ওরফে কালিয়া। বর্তমানে তারা ফরিদাবাদের কিষাণ মজদুর কলোনিতে বসবাস করত এবং পেশায় অটোচালক ছিল।

এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত বাকি দুই পলাতক সন্দেহভাজনকে ধরতে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থানে জোরদার অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, খুব শীঘ্রই বাকিদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।