শেয়ার বাজারে রক্তক্ষয়: একদিনে ৯ লক্ষ কোটি টাকা উধাও, ধসের নেপথ্যে ৫ বড় কারণ!

সংঘাতের কালো ছায়া এবং বিশ্ব অর্থনীতির টালমাটাল পরিস্থিতির জেরে ভারতীয় শেয়ার বাজারে আজ এক বিশাল রক্তক্ষয়ী অধ্যায় রচিত হলো। বাজার খোলার ঠিক কিছুক্ষণ পরেই যেখানে বিনিয়োগকারীদের ৬ লক্ষ কোটি টাকার লোকসান হয়েছিল, দিনের লেনদেন শেষে তা হু হু করে বেড়ে ৯ লক্ষ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। আকস্মিক এই ধসে বিনিয়োগকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ গভীর হয়েছে।

আজ সোমবারের লেনদেনে বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের (BSE) ৩০-শেয়ারের সেনসেক্স সূচক ১.৫২ শতাংশ বা ১,১২৪.০২ পয়েন্ট কমে ৭২,৭৭১.৭২ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছে। অন্যদিকে, ৫০-শেয়ারের নিফটি ১.৫৬ শতাংশ বা ৩৬০.২৫ পয়েন্ট পতনের সঙ্গে ২২,৭৮০.২৫ পয়েন্টে নেমে এসেছে। বিএসই-র তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলির মোট বাজার মূলধন কমে প্রায় ৪৭৩ লক্ষ কোটি টাকায় এসে ঠেকেছে।

কোন ৫ কারণে নামল ধস?

১. পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান সংঘাত: ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। সম্প্রতি ইরানের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মার্কিন প্রশাসন প্রত্যাখ্যান করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

২. অপরিশোধিত তেলের মূল্যে লাফ: হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৭ ডলারে পৌঁছেছে, যা প্রায় ২ শতাংশ বেশি।

৩. বিদেশী বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রি: দেশীয় বাজার থেকে টাকা তুলে নেওয়ার হিড়িক বাড়িয়েছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। শুধুমাত্র চলতি মাসেই ২৫ হাজারের বেশি কোটি টাকার শেয়ার প্রত্যাহার করা হয়েছে।

৪. টাকার রেকর্ড পতন: মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রার মান মারাত্মকভাবে কমে ৯৬-এর নিচে নেমে গেছে।

৫. মার্কিন বন্ডের ইল্ড বৃদ্ধি: মার্কিন ১০-বছর মেয়াদী বন্ডের ইল্ড ২০০৪ সালের পর সর্বোচ্চ ৫.২ শতাংশ অতিক্রম করায় দেশীয় বাজার থেকে পুঁজি সরে যাচ্ছে।

বাজারের এই অস্থির পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের আতঙ্ক না বাড়িয়ে পরিস্থিতি বুঝে পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।