সীমান্তে কঠোর মোদী সরকার, এবার ‘সন্ত্রাসবাদী’ তকমা পেল ২৩ জঙ্গি, জানুন তালিকায় কারা?

দেশের সুরক্ষায় ফের কঠোর অবস্থান নিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া এবং দেশবিরোধী নাশকতামূলক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ২৩ জন ব্যক্তিকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ হিসেবে চিহ্নিত করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। শুক্রবার এক সরকারি গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কঠোর সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। ১৯৬৭ সালের বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন বা ‘ইউএপিএ’ (UAPA)-এর ৩৫ নম্বর ধারার অধীনে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অন্যতম উদাহরণ হিসেবে দেখছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, তালিকায় থাকা এই ২৩ জন ব্যক্তি মূলত নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (JeM) এবং লস্কর-ই-তৈবার (LeT)-এর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। তাঁদের বিরুদ্ধে নিয়োগ (recruitment), প্রশিক্ষণ, তহবিল সরবরাহ, অস্ত্র পাচার এবং ভারতীয় ভূখণ্ডে বড়সড় হামলার ষড়যন্ত্রের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য নামগুলির মধ্যে রয়েছেন মাসুদ ইলিয়াস কাশ্মীরি, যিনি ২০২২ সালের সুঞ্জওয়ান সেনা ক্যাম্প হামলার অন্যতম মূলচক্রী হিসেবে পরিচিত। প্রধানমন্ত্রীর জম্মু সফর ভণ্ডুল করতে নাশকতার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। পাশাপাশি, মহম্মদ মুসাদ্দিক, যাঁর বিরুদ্ধে সুঞ্জওয়ান হামলার সময় পাকিস্তান থেকে অনুপ্রবেশের পথ তৈরি ও হামলার নির্দেশ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। তালিকায় রয়েছেন মুফতি মহম্মদ আসগর খান ও আব্দুল্লাহ জেহাদি—যারা ২০১৬ সালের নাগরোটা সেনা ক্যাম্প হামলার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড। এছাড়াও ফেরদৌস আহমেদ ভাট ও বিলাল আহমেদ মীর-এর মতো লস্কর ও টিআরএফ কমান্ডারদের নাম রয়েছে, যারা দীর্ঘ সময় ধরে অনুপ্রবেশ এবং নাশকতার ছক কষার দায়িত্বে ছিলেন।

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি আন্তর্জাতিক মঞ্চে বারবার প্রশংসিত হয়েছে। সেই লক্ষ্যেই এই বছর কেন্দ্র ঘোষণা করেছে দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ সন্ত্রাসবিরোধী নীতি, ‘প্রহার’ (PRAHAAR)। এই নতুন নিরাপত্তা মতাদর্শের অধীনে, সন্ত্রাসবাদকে কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা জাতির সঙ্গে জুড়ে না দেখে তাকে জাতীয় নিরাপত্তার প্রধান হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০১৯ সালের ইউএপিএ সংশোধনীর পর কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে কোনো ব্যক্তিকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ হিসেবে ঘোষণা করার আইনি ক্ষমতা বহুগুণ বেড়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মতে, এই ২৩ জনকে চিহ্নিত করার ফলে শুধু তাদের গতিবিধিই নজরদারিতে থাকবে না, বরং আন্তর্জাতিক মঞ্চে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার জন্য পাকিস্তানকে কোণঠাসা করতেও ভারতের সুবিধা হবে। এই পদক্ষেপ সীমান্ত সুরক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।