সীমান্তে অনুপ্রবেশ বিতর্ক, তেহট্টে বাংলাদেশি পাচারকারী গ্রেফতার; কলকাতায় জামতাড়া গ্যাংয়ের রমরমা, ৪ জন জালে

যখন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে অনুপ্রবেশ এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে, ঠিক তখনই নদীয়ার তেহট্ট সীমান্ত থেকে এক বাংলাদেশি পাচারকারীকে গ্রেফতার করল সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। অন্যদিকে, কলকাতা পুলিশ একটি বৃহৎ আর্থিক প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস ঘটিয়ে কুখ্যাত জামতাড়া গ্যাংয়ের চার সদস্যকে আটক করেছে। এই দুটি ঘটনা একদিকে রাজ্যের সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অন্যদিকে সাইবার অপরাধের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জগুলিকে নতুন করে সামনে আনল।

তেহট্টে বাংলাদেশি পাচারকারী বিএসএফের হাতে:
শনিবার (২৬শে জুলাই, ২০২৫) নদীয়ার তেহট্টর খাঞ্জিপুর বর্ডার আউট পোস্টে অভিযান চালিয়ে বিএসএফ জসিম হোসেন নামে এক সন্দেহভাজন বাংলাদেশি পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে। সূত্র মারফত খবর, ধৃত জসিম বাংলাদেশের ঢাকার বাসিন্দা। সম্প্রতি অনুপ্রবেশ এবং ‘পুশব্যাক’ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে যখন তীব্র আলোচনা চলছে, ঠিক সেই সময়েই এই গ্রেফতারি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিএসএফ প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে, ধৃত ব্যক্তি সম্ভবত সীমান্ত পারাপারের অবৈধ কার্যকলাপে জড়িত। তার মূল উদ্দেশ্য এবং এই চক্রের বাকি সদস্যদের খুঁজে বের করতে তদন্ত জোর কদমে চলছে। এই ঘটনা আবারও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে অবৈধ কার্যকলাপের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনল।

কলকাতায় জামতাড়া গ্যাংয়ের জালিয়াতি ফাঁস, আটক ৪:
অপরদিকে, কলকাতা পুলিশ আর্থিক প্রতারণার এক বৃহৎ চক্রের বিরুদ্ধে সফল অভিযান চালিয়ে জামতাড়া গ্যাংয়ের সাথে জড়িত সন্দেহে চারজনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতরা লেকটাউন ও এন্টালির বাসিন্দা বলে জানা গেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, এই গ্যাংটি ঝাড়খণ্ডের জামতাড়া থেকে নিজেদের মূল কার্যকলাপ পরিচালনা করত এবং কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তেও তাদের নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল।

প্রতারকরা একটি নামী বেসরকারি ব্যাঙ্কের ভুয়ো ওয়েবসাইট তৈরি করে গ্রাহকদের ফাঁদে ফেলত। সেই ভুয়ো ওয়েবসাইটে একটি কাস্টমার কেয়ার নম্বর দেওয়া থাকত। কোনো গ্রাহক যখন অভিযোগ বা সহায়তার জন্য সেই নম্বরে ফোন করতেন, তখন তাদের হোয়াটসঅ্যাপে একটি ফিশিং লিঙ্ক পাঠানো হতো। গ্রাহকরা সেই লিঙ্কে ক্লিক করা মাত্রই তাদের মোবাইল ফোন হ্যাক হয়ে যেত এবং মুহূর্তের মধ্যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা উধাও হয়ে যেত।

বন্দর এলাকা থেকে দু’জন এবং এন্টালি ও লেকটাউন থেকে আরও দু’জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে সাইবার ক্রাইম থানা ও গার্ডেনরিচ থানা। এর আগেও কলকাতা পুলিশের তদন্তে বহুবার জামতাড়া গ্যাংয়ের নাম উঠে এসেছে। এই জামতাড়া গ্যাং যে সক্রিয় ছিল, সেই বিষয়ে পুলিশের কাছে তথ্য ছিল। এবার জানা গিয়েছে, কলকাতা এবং জামতাড়া উভয় স্থান থেকেই প্রতারকরা এই চক্র চালাচ্ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া চারজন ছাড়াও এই বৃহৎ জালিয়াতি চক্রে আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারে এবং তাদের খুঁজে বের করার জন্য তদন্ত জোর কদমে চলছে।

এই দুটি পৃথক ঘটনা একই দিনে প্রকাশ্যে আসার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একদিকে যেমন সীমান্ত অঞ্চলে অবৈধ কার্যকলাপ ঠেকানো জরুরি, তেমনই সাইবার অপরাধীদের নিত্যনতুন ফাঁদ থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য ডিজিটাল সচেতনতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। পুলিশ উভয় ক্ষেত্রেই নাগরিকদের সতর্ক থাকতে এবং যেকোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ সম্পর্কে অবিলম্বে প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy