রাজস্থানের পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ক্রমবর্ধমান সংখ্যা নিয়ে এবার নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নিল সুপ্রিম কোর্ট। ২০২৫ সালে মাত্র ৭-৮ মাসের ব্যবধানে ১১ জন ব্যক্তির কাস্টডিয়াল ডেথ বা বিচারবিভাগীয় হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সর্বোচ্চ আদালত। এই মর্মে সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিবকে সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিল বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার ডিভিশন বেঞ্চ।
কেন এই তলব? আদালত জানিয়েছে, দেশের প্রতিটি পুলিশ স্টেশনে, বিশেষ করে জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষে (Interrogation Room) সিসিটিভি বসানো এবং রিয়েল-টাইম নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল অনেক আগেই। কিন্তু আদালতের বেঁধে দেওয়া সময় পেরিয়ে গেলেও অনেক রাজ্যে সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি। সিসিটিভি নজরদারিতে এই গাফিলতি কেন, তা জানতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিবকে তলব করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ: একটি সংবাদমাধ্যমে রাজস্থানের এই ভয়াবহ চিত্র প্রকাশিত হওয়ার পরই স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতিদের সাফ কথা, লক-আপে মৃত্যুর ঘটনা রুখতে আধুনিক প্রযুক্তি ও স্বচ্ছতা অত্যন্ত জরুরি। সিসিটিভি না থাকা মানেই পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ করে দেওয়া।
কালিয়াচক কাণ্ডে আইনজীবীর বহিষ্কার: অন্যদিকে, বাংলার মালদহের কালিয়াচকে বিচারকদের ওপর হামলার ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নিল কলকাতা হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন। অভিযুক্ত আইনজীবী মোফাক্কুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে জরুরি বৈঠক ডেকে তাঁকে বার থেকে অবিলম্বে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিচারব্যবস্থার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে ডিসিপ্লিনারি প্রসেডিংও।
পুলিশি নির্যাতন রুখতে সুপ্রিম কোর্টের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিবকে তলব করার ঘটনাটি জাতীয় রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। পরবর্তী শুনানিতে কেন্দ্র কী জবাব দেয়, এখন সেটাই দেখার।





