সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় প্রথম হয়েছিলেন, ঘুষ নিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়লেন ওড়িশার সেই টপার!

সাধারণত ক্লাসের প্রথম সারির শিক্ষার্থীরা সমাজের নৈতিক মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়, কিন্তু এবার সেই ধারণাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। ওড়িশা সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার টপার অশ্বিনী কুমার পান্ডাকে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে ভিজিল্যান্স দফতর। তিনি বর্তমানে সাম্বলপুর জেলার বামরা ব্লকে তহসিলদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ভিজিল্যান্স দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এক ব্যক্তি তার কৃষিজমিকে ভিটে জমিতে রূপান্তর করার জন্য আবেদন করেছিলেন। এই কাজের অনুমোদনের জন্য তহসিলদার পান্ডা প্রথমে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। আবেদনকারী রাজি না হলে তিনি ১৫ হাজার টাকায় কাজটি করার কথা বলেন। ঘুষ না দিলে আবেদন বাতিল করে দেওয়ার হুমকিও দেন তিনি।

এরপরই ওই ব্যক্তি সরাসরি ভিজিল্যান্স দফতরের দ্বারস্থ হন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুক্রবার একটি ফাঁদ পাতা হয়। আবেদনকারীর ড্রাইভারের হাত দিয়ে ঘুষের টাকা নেওয়ার সময় পান্ডাকে তার অফিস থেকেই হাতে-নাতে ধরে ফেলে ভিজিল্যান্স দল। ঘুষের পুরো অর্থই তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় তার ড্রাইভার প্রবীণ কুমারকেও গ্রেফতার করা হয়েছে এবং দুজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পান্ডাকে গ্রেফতার করার পর ভিজিল্যান্সের একটি দল ভুবনেশ্বরের তার বাড়ি এবং সরকারি আবাসে তল্লাশি চালায়। সেখান থেকে নগদ ৪.৭৩ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে। ৩২ বছর বয়সী অশ্বিনী কুমার পান্ডা একজন যান্ত্রিক প্রকৌশলী। তিনি ২০১৯ সালে ওড়িশা সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে ব্যাপক নজর কেড়েছিলেন। ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি প্রশাসনে যোগ দেন।

একজন সিভিল সার্ভিস টপারের এমন দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়া প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অনেকেই এই ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশাসনের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ভিজিল্যান্স দফতর পান্ডার বিরুদ্ধে আরও আর্থিক অনিয়মের তদন্ত করছে।