সিবিআই অফিসার সেজে ১৭ লক্ষ টাকার ফন্দি! প্রাক্তন বিধায়কের তৎপরতায় জালে কুখ্যাত প্রতারক

চুঁচুড়ার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদারের কাছে নিজেকে সিবিআই আধিকারিক পরিচয় দিয়ে ১৭ লক্ষ টাকা চাঁদা বা extortion-এর চেষ্টার অভিযোগ উঠল। ঘটনার জেরে সোমবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া থেকে প্রকাশ রায় নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে চুঁচুড়া থানার পুলিশ। আজ মঙ্গলবার তাকে চুঁচুড়া আদালতে তোলা হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি চুঁচুড়ার প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদারের কাছে একটি ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে সিবিআই আধিকারিক বলে দাবি করে এবং রাজ্যের এক হেভিওয়েট নেতার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করে। অসিতবাবুর কাছে সে সাফ ১৭ লক্ষ টাকা দাবি করে। কিন্তু ওই যুবকের কথাবার্তায় অসঙ্গতি ও সন্দেহজনক আচরণ লক্ষ্য করেন পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদ অসিতবাবু। তিনি বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে সঙ্গে সঙ্গে চুঁচুড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ পাওয়ার পরেই তদন্তে নামে চুঁচুড়া থানা। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে অভিযুক্তের মোবাইল ফোন নম্বর ট্র্যাক করতে শুরু করে পুলিশ। সোমবার বিকেলেই হাবড়া থানার পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। অবশেষে গভীর রাতে হাবড়া রেল স্টেশন চত্বর থেকে অভিযুক্ত প্রকাশ রায়কে পাকড়াও করে পুলিশ।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, প্রতারণার দুনিয়ায় প্রকাশ একেবারে নতুন নয়। তার বিরুদ্ধে রয়েছে এক দীর্ঘ অপরাধের ইতিহাস। ২০১৫ সালে মাদক পাচারের অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছিল। টানা দু’বছর জেল খাটার পর সে জামিনে মুক্তি পায়। এরপর জাল আধার ও প্যান কার্ড তৈরি করে দেওয়ার একটি চক্রের সঙ্গে তার যোগসূত্র পাওয়া যায় এবং সেই অপরাধেও সে গ্রেফতার হয়েছিল। জামিনে মুক্ত হয়ে সে ফের নতুন ফন্দি আঁটতে শুরু করে। নিজেকে আন্তর্জাতিক বা জাতীয় স্তরের দাবাড়ু পরিচয় দিয়ে বাগদা এলাকার একাধিক মানুষের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকী, খোদ বাগদার তৎকালীন বিডিও-র কাছ থেকেও সে কয়েক হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছিল। ২০২৪ সালে বাগদার তৎকালীন বিডিও থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তাকে ফের গ্রেফতার করে। গত মে মাসেই একটি প্রতারণা মামলায় সে গ্রেফতার হয়েছিল এবং কিছুদিন হাজতবাসের পর জামিনে বেরিয়ে এসে আবার সিবিআই অফিসার সেজে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে।

পুলিশের তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রকাশ কেবল সাধারণ মানুষ বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদেরই টার্গেট করত না, তার প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়েছিলেন পদস্থ পুলিশকর্তারাও। অতীতে সে নিজেকে দাবাড়ু হিসেবে পরিচয় দিয়ে বারাসতের তৎকালীন পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর চেষ্টা করেছিল। যদিও আসল পরিচয় সামনে আসার পর ওই পুলিশকর্তা তাকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। কিন্তু অপরাধের পথ থেকে সে সরে আসেনি। বারবার গ্রেফতার হওয়া সত্ত্বেও তার প্রতারণার মানসিকতায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। শেষ পর্যন্ত এক অভিজ্ঞ রাজনীতিকের কাছে ফন্দি আঁটতে গিয়ে পুলিশের জালে ধরা পড়তে হলো এই ধুরন্ধর প্রতারককে।