২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভাঙন অব্যাহত বাম শিবিরে। সিপিএম-এর তরুণ তুর্কি এবং গত লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতীক উর রহমান দল ছাড়লেন। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) তিনি সিপিএম-এর রাজ্য কমিটি এবং দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তাঁর এই ইস্তফার পরই রাজনৈতিক মহলে জোরালো গুঞ্জন শুরু হয়েছে— তবে কি চলতি সপ্তাহেই ঘাসফুল শিবিরে নাম লেখাতে চলেছেন তিনি?
কেন দল ছাড়লেন প্রতীক? ইস্তফাপত্রে প্রতীক উর রহমান জানিয়েছেন, দলের রাজ্য ও জেলা নেতৃত্বের বর্তমান কৌশল এবং চিন্তাভাবনার সঙ্গে তিনি নিজেকে আর মেলাতে পারছেন না। আদর্শগত সংঘাতই তাঁর এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও তিনি প্রকাশ্যে এখনও কোনো দলে যোগদানের কথা বলেননি, তবে তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর ক্রমবর্ধমান ‘সখ্য’ নিয়ে আলিমুদ্দিনের অন্দরে দীর্ঘদিনের চর্চা ছিল।
তৃণমূলে যোগদানের সম্ভাবনা: সূত্রের খবর, তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ইতিমধ্যেই প্রতীকের একপ্রস্থ কথাবার্তা হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক ও যুব সমাজের কাছে প্রতীকের জনপ্রিয়তা কাজে লাগাতে চাইছে ঘাসফুল শিবির। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আদর্শগত যে ‘সংকট’-এর কথা প্রতীক বলছেন, তার সমাধান হিসেবে তিনি তৃণমূলের উন্নয়নমূলক রাজনীতিকেই বেছে নিতে পারেন।
প্রতীক উরের এই পদত্যাগ নিয়ে মুখ খুলেছেন সিপিএম-এর অনেক নেতা। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শমীক লাহিড়ী জানিয়েছেন, তাঁরা প্রতীকের সঙ্গে কথা বলবেন। তবে প্রতীকের অনুগামীদের দাবি, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই কোনো এক শুভ ক্ষণে তিনি কলকাতার তৃণমূল ভবনে যোগ দিতে পারেন। ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রে লড়াই করে তিনি যে পরিচিতি পেয়েছিলেন, তাকে কি এবার তৃণমূলের হয়ে কাজে লাগাবেন? উত্তর সময়ের অপেক্ষা।