এনডিএ-র মেগা বৈঠক! মোদীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ শরিকরা, এদিকে দল ভেঙে বড় ধাক্কা তৃণমূলে?

সংসদের লাইব্রেরি বিল্ডিং-এর জিএমসি বালাযোগী অডিটোরিয়ামে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এনডিএ সংসদীয় দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘মঙ্গল মিলন’ বৈঠক। মূলত টানা দীর্ঘ সময় ধরে দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করার জন্য নরেন্দ্র মোদীকে বিশেষ সংবর্ধনা জানানো এবং রাজ্যসভার সদ্য নির্বাচিত নতুন সদস্যদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর উদ্দেশ্যেই এই সভার আয়োজন করা হয়েছে। এই বিশেষ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং, কিরেন রিজিজু এবং অর্জুন রাম মেঘওয়াল উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বৈঠকে যোগ দিতে একে একে আসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, ধর্মেন্দ্র প্রধান ও জি কিষাণ রেড্ডি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এনডিএ-র শরিক দলগুলি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী থাকার ঐতিহাসিক মাইলফলকটিকে স্মরণ করে একটি বিশেষ অভিনন্দন প্রস্তাব পাশ করবে। এরপরই প্রধানমন্ত্রী মূল ভাষণে দেশের পরবর্তী রাজনৈতিক দিশা ও সরকারের নীতিনির্ধারণ নিয়ে বার্তা দেবেন। বৈঠকের প্রাক্কালে বিজেপি সাংসদ অশোক মিত্তল তাঁর প্রথম এনডিএ সংসদীয় বৈঠকে যোগ দেওয়ার রোমাঞ্চ প্রকাশ করে জানান যে, দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছ থেকে সরাসরি দিকনির্দেশনা পাওয়ার এই সুযোগ তাঁর কাজের ক্ষেত্রকে আরও বেশি প্রশস্ত করবে।
এদিকে এই রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক বিশাল ভূমিকম্পের ইঙ্গিত মিলেছে। তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে তৈরি হওয়া নতুন রাজনৈতিক দল ‘ন্যাশনলিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI) আনুষ্ঠানিকভাবে এনডিএ জোটকে সমর্থন করার কথা ঘোষণা করেছে। এই নতুন বিদ্রোহী দলে তৃণমূলের প্রায় ২০ জন সাংসদ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে লোকসভার স্পিকারের পক্ষ থেকে এখনও এনসিপিআই নামে এই নতুন গোষ্ঠীর সংযুক্তিকরণ বা স্বীকৃতির সিলমোহর না পড়ায়, তাঁরা আজকের এই যৌথ বৈঠকে অংশ নেননি। এর আগে রবিবার বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এনসিপিআই তাঁদের প্রথম স্বতন্ত্র সংসদীয় দলের বৈঠক সেরে ফেলেছেন। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, সংসদে তাঁদের বসার আসন, নির্দিষ্ট ডিভিশন নম্বর এবং আলাদা ব্লকের মতো সাংগঠনিক বিষয়গুলি নিশ্চিত করা হয়েছে। তাঁরা সম্পূর্ণভাবে এনডিএ সরকারকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং সংসদের আগামী আলোচনাগুলিতেও সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন। সুদীপের আরও সংযোজন, পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের কোনো সমস্যা থাকলে তা অহেতুক দিল্লিতে টেনে না এনে রাজ্য সরকারের সঙ্গেই আলোচনা করে মিটিয়ে নেওয়া উচিত। প্রসঙ্গত, সোমবার থেকে শুরু হওয়া সংসদের এই গুরুত্বপূর্ণ বাদল অধিবেশন আগামী ১৩ আগস্ট পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে, যার জেরে জাতীয় রাজনীতিতে উত্তাপ এখন চরমে।