সিনেমা ফিলের বর্ষার রুট! সপ্তাহান্তে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়লেই মিলবে ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’র আসল ভাইবস!

“দোস্তি, মস্তি আর একটু পাগলামি”—এই তিনটে জিনিসের সঠিক মিশ্রণ থাকলেই যেকোনো রোড ট্রিপ একেবারে জমে ক্ষীর হয়ে যায়। হৃতিক রোশন, ফারহান আখতার এবং অভয় দেওলের কালজয়ী ছবি ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’ দেখার পর থেকেই কমবেশি আমরা সকলেই গাড়ি বা বাইকের চাবি হাতে নিয়ে দিগন্তের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখি। যদিও আক্ষরিক অর্থেই স্পেনে গিয়ে রোড ট্রিপ করা সকলের পক্ষে সম্ভব নয়, তবে আমাদের এই ভারতেই এমন কিছু চোখ জুড়ানো রুট রয়েছে, যেখানে বর্ষার মৌসুমে ড্রাইভ করলে আপনার প্রতি মুহূর্তে মনে হবে আপনিও বুঝি কোনো হাই-বাজেট সিনেমার কোনো নিখুঁত শটের মধ্য দিয়েই এগিয়ে চলেছেন।

বর্ষাকাল মানেই চারপাশে অপার সবুজ প্রকৃতির হাতছানি, রাস্তার দুই ধারে কলকল করে বয়ে চলা ঝরনা, আর মাথার উপর ভেসে বেড়ানো মেঘের ফালি। এই মনোরম ও রোমান্টিক আবহাওয়াতেই গাড়ি ড্রাইভ করার আসল আনন্দ খুঁজে পাওয়া যায়। তাই আর কালক্ষেপ না করে এই বর্ষার মৌসুমে আপনার ছুটির উইকএন্ডে প্ল্যান করে ফেলুন ভারতের সেরা এই ৬টি রোমাঞ্চকর রোড ট্রিপের যেকোনো একটি।

১. মুম্বই থেকে লোনাভালা-খাণ্ডালা: মুম্বই থেকে মাত্র ৩ ঘণ্টার ড্রাইভেই আপনি পৌঁছে যেতে পারবেন এই স্বর্গীয় স্থানে। ‘জেডএনএমডি’ ছবির স্পেনের মনোরম রাস্তার মতোই এখানে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে ঘন কুয়াশায় মোড়া পাহাড়ি বাঁক এবং আঁকাবাঁকা পথ। রাস্তার দু’ধারে অন্তহীন সবুজ উপত্যকা এবং বিখ্যাত ভুশি ড্যামের থৈ থৈ জল আপনাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাবে। উইকএন্ডের ছোট্ট ছুটির দিনে রিফ্রেশ হওয়ার জন্য এই রুটটি একেবারে পারফেক্ট।

২. ব্যাঙ্গালোর থেকে কুর্গ: ব্যাঙ্গালোর থেকে প্রায় ৫ থেকে ৬ ঘণ্টার এই দীর্ঘ যাত্রাপথে আপনার চোখের সামনে একে একে ধরা দেবে দিগন্তবিস্তৃত কফি বাগান এবং মেঘে ঢাকা সুউচ্চ ঘাট রোড। বর্ষার মৌসুমে কুর্গের প্রাকৃতিক রূপ সম্পূর্ণ বদলে গিয়ে এক জাদুকরি রূপ ধারণ করে। যাত্রাপথে অসংখ্য ছোট-বড় ঝরনার পাশ দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে পছন্দের গান চালিয়ে দিলেই আপনার মনের মধ্যে নিখুঁত ‘জেডএনএমডি’ ভাইবস চলে আসবে।

৩. দিল্লি থেকে মানালি: আপনি যদি দীর্ঘ পথ ড্রাইভ করতে ভালোবাসেন, তবে দিল্লি থেকে মানালির এই ১২ ঘন্টার লম্বা ড্রাইভটি আপনার জন্য সেরা অভিজ্ঞতা হতে পারে। যদিও এটি দীর্ঘ পথ, তবে রাস্তার প্রতিটা বাঁক আপনাকে নতুন কিছু চমক উপহার দেবে। মান্ডি পেরোতেই আপনার জন্য শুরু হবে সুউচ্চ পাহাড়, পাশ দিয়ে বয়ে চলা পাহাড়ি নদী আর লাল আপেল বাগান। তবে বর্ষায় পাহাড়ি পথে বেরোনোর আগে ল্যান্ডস্লাইড বা ধসের খবর অবশ্যই চেক করে নেবেন। চাইলে মাঝে কুলুতে এক রাত কাটিয়ে নিতে পারেন।

৪. গুয়াহাটি থেকে শিলং-চেরাপুঞ্জি: শিলং ও চেরাপুঞ্জিকে বিশ্বজুড়ে “মেঘের বাড়ি” বলা হয়, কারণ এই রুটে আপনি আক্ষরিক অর্থেই মেঘের চাদর ভেদ করে গাড়ি চালাবেন। গুয়াহাটি থেকে মাত্র ৩ ঘণ্টার এই দুর্দান্ত রাস্তায় আপনার চোখে পড়বে অপরূপ সুন্দর উমিয়াম লেক এবং একের পর এক মনোরম জলপ্রপাত। বর্ষায় চেরাপুঞ্জি পৃথিবীর অন্যতম সিক্ত ও সুন্দরতম স্থান হিসেবে নিজেকে মেলে ধরে।

৫. পুনে থেকে মহাবালেশ্বর: পুনে থেকে মহাবালেশ্বরের মাত্র ৪ ঘণ্টার এই পাহাড়ি রাস্তাটি একদম নিখুঁত সিনেমাটিক অনুভূতির সৃষ্টি করে। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ, তাজা স্ট্রবেরি ক্ষেত এবং বিখ্যাত ম্যাপেল পয়েন্ট থেকে উপত্যকার অপরূপ ভিউ আপনার মন কেড়ে নিতে বাধ্য। বর্ষায় এখানকার বিখ্যাত লিঙ্গমালা জলপ্রপাত চোখের সামনে দেখার মতো এক দৃশ্য তৈরি করে। শনিবার ভোরে রওনা দিয়ে রবিবারই ঘুরে আসা যায়।

৬. কলকাতা থেকে দিঘা-মন্দারমণি: যারা পাহাড়ের চেয়ে সমুদ্রের নোনতা হাওয়া বেশি পছন্দ করেন, তাদের জন্য এই রুটটি সেরা। মাত্র ৪ ঘণ্টার ড্রাইভে আপনি পৌঁছে যাবেন সোজা বঙ্গোপসাগরের বালুকাবেলায়। বর্ষায় উত্তাল সমুদ্রের ঢেউয়ের গর্জন আর আকাশের কালো মেঘের রোমাঞ্চকর খেলা দেখার মতো এক অভিজ্ঞতা দেয়। সমুদ্রের ধারে রাস্তার ধাবায় বসে গরম চা আর মুচমুচে পকোড়ার প্লেটে কামড় বসাতে ভুলবেন না।

রোড ট্রিপে বেরোনোর আগে কয়েকটি অত্যন্ত জরুরি বিষয়ে নজর রাখা দরকার। যাত্রার আগে গাড়ির ব্রেক, ওয়াইপার এবং টায়ারের কন্ডিশন ভালো করে চেক করে নিন। ব্যাগে পর্যাপ্ত ফার্স্ট এইড বক্স, মানসম্মত রেনকোট এবং অতিরিক্ত পোশাক রাখতে ভুলবেন না। বিশেষ করে পাহাড়ি দুর্গম রাস্তায় কখনোই রাতে ড্রাইভ করা এড়িয়ে চলুন।