“সিটি অফ জয়” না কি “সিটি অফ স্লামস”? অমিত শাহের মন্তব্যে জ্বলছে বঙ্গ রাজনীতি, ফুঁসছে ঘাসফুল শিবির!

তিলোত্তমা তকমা ঘুচিয়ে কলকাতাকে ‘বস্তির শহর’ (City of Slums) বলে কটাক্ষ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বুধবার দমদম উত্তরের এক জনসভা থেকে বিজেপির হেভিওয়েট নেতার এই মন্তব্য ঘিরেই এখন তোলপাড় বঙ্গ রাজনীতি। শাহের এই আক্রমণের পাল্টায় এবার ‘আবেগ’ ও ‘বাঙালি অস্মিতা’কে হাতিয়ার করে আসরে নামল তৃণমূল কংগ্রেস।

শাহের বিতর্কিত মন্তব্য এদিন দমদম উত্তরের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বাম শাসনকে একযোগে বিঁধে অমিত শাহ বলেন, “দিদি এবং কমিউনিস্টদের রাজত্বে পুরো শহর প্রায় একপ্রকার বস্তির শহরে পরিণত হয়েছে। দেশের অন্যান্য শহর যখন বস্তিমুক্ত হচ্ছে, দিদি তখন অনুপ্রবেশকারীদের দিয়ে ভোটব্যাঙ্ক বানাতে ব্যস্ত।” কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরেই পাল্টায় সরব হয় তৃণমূল।

তৃণমূলের পাল্টা ‘জমিদার’ কটাক্ষ সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্ট করে তৃণমূল কংগ্রেস লেখে, “কলকাতাকে সিটি অফ জয়, সিটি অফ লাভ বা ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী বলা হয়। আজ অমিত শাহ সেই তালিকায় নিজের অবদান রাখলেন— বস্তির শহর!” তৃণমূলের দাবি, বিজেপি ঠিক এই দৃষ্টিতেই বাংলাকে দেখে। যারা এই শহরকে তিলে তিলে গড়েছেন, সেই সাধারণ মানুষকে শাহ ‘অবজ্ঞা’ করছেন বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে।

বিজেপি নেতাদের ‘বাংলা বিরোধী জমিদার’ আখ্যা দিয়ে তৃণমূলের প্রশ্ন, “আপনারা কি ভাবতে পারছেন, এই জমিদারদের জন্য দরজা খুলে দিলে বাংলার দশা কী হবে? এই শহরে যাঁরা শ্বাস নেন, তাঁরা কি কেবলই শাহের অবজ্ঞার যোগ্য?”

ভোটের মুখে তপ্ত কলকাতা প্রথম দফার নির্বাচনের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে কলকাতার ঐতিহ্য ও পরিচিতি নিয়ে এই বাদানুবাদ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে যখন বিজেপি উন্নয়নের নিরিখে শহরকে পিছলে যাওয়ার দাবি করছে, অন্যদিকে তৃণমূল একে কলকাতার প্রতি অপমান হিসেবে তুলে ধরে বাঙালির ভাবাবেগকে উস্কে দিতে চাইছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অমিত শাহের এই মন্তব্যকে পুঁজি করে শহরবাসীর মনে বিজেপি বিরোধী হাওয়া তুলতে একচুল জমিও ছাড়বে না জোড়াফুল শিবির।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy