বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন বৃহস্পতিবার। ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ। তবে এবারের ভোট শুধু স্লোগান বা রোড-শোর নয়; এবার ভোটারদের মনে কাজ করছে গভীর এক ‘নীরব বিপ্লব’। বুথমুখী হওয়ার আগে ভোটারদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে আরজি কর কাণ্ডের মতো একাধিক জ্বলন্ত প্রশ্ন।
প্রথম দফার মেগা ফাইট: এক নজরে হেভিওয়েটরা
| প্রার্থী | কেন্দ্র | মূল চ্যালেঞ্জ |
| শুভেন্দু অধিকারী | নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর | নিজের গড়ে স্থায়িত্ব ধরে রাখা এবং বিরোধী দলনেতা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করা। |
| অধীর চৌধুরী | বহরমপুর | কংগ্রেসের শেষ দুর্গ রক্ষা এবং নবাগত ভোটারদের আস্থা অর্জন। |
| দিলীপ ঘোষ | খড়গপুর সদর | নিজের হারানো জমি ফিরে পাওয়া এবং ‘ভরসাযোগ্য কণ্ঠ’ হিসেবে কামব্যাক। |
| নিশীথ প্রামাণিক | মাথাভাঙা | উত্তরবঙ্গকে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে ধরে রাখা এবং উন্নয়নের সেতুবন্ধন। |
| মানস ভুঁইয়া | সবং | দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাকে ভোটে জেতানো। |
| মৌসম নূর | মালতিপুর | পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য ফিরে পাওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদী লড়াইয়ে টিকে থাকা। |
নীরব ভোটারদের তুরুপের তাস কী?
এবার ভোটের ময়দানে ভোটারদের মুখ খুলতে দেখা যাচ্ছে না। মালদা-মুর্শিদাবাদ থেকে শুরু করে দুই মেদিনীপুর—সর্বত্রই এক রহস্যময় নীরবতা। এর নেপথ্যে রয়েছে তিনটি মূল কারণ:
১. অভিজ্ঞতার লড়াই: গত কয়েক বছরের প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং মানুষের না-পাওয়া প্রতিশ্রুতি ভোটারদের ভাবাচ্ছে।
২. দুর্নীতির ছায়া: নিয়োগ দুর্নীতির ইস্যুটি এখন আর শুধু আদালতের কক্ষে সীমাবদ্ধ নেই, তা সাধারণ মানুষের আলোচনায় বড় জায়গা দখল করেছে।
৩. নিরাপত্তা ও সুশাসন: আরজি করের ঘটনার পর থেকে বিশেষ করে নারী নিরাপত্তা ও স্বচ্ছ প্রশাসনের দাবিতে সরব নীরব জনতা।
শক্তির লড়াই বনাম স্মৃতির লড়াই
শুভেন্দু অধিকারীর কাছে এবারের লড়াই শুধু জয়ের নয়, বরং বিরোধী দলনেতা হিসেবে তাঁর উচ্চতা প্রমাণের। অন্যদিকে, অধীর চৌধুরী লড়াই করছেন এক ঐতিহ্যের সামনে দাঁড়িয়ে, যেখানে কংগ্রেসের জমি কিছুটা আলগা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ভিত্তি এখনও অটুট। দিলীপ ঘোষের রণকৌশল অনেকটা স্মৃতি-নির্ভর; তিনি সেই সময়ের ‘হাওয়ার’ অপেক্ষায় আছেন যা ২০১৯-এ তাঁকে অক্সিজেন দিয়েছিল।
উপসংহার: কার পাল্লা ভারী?
তৃণমূল কংগ্রেস যখন ‘সুশাসন’কে হাতিয়ার করে ক্ষমতার বহমানতা বজায় রাখতে চাইছে, বিজেপি তখন ‘জনরোষ’কে ভোটব্যাঙ্কে রূপান্তর করতে মরিয়া। মৌসম নূরের মতো কৌশলী বা হুমায়ুন কবীরের মতো অনিশ্চিত প্রার্থীরাও এই ১৬ জেলার সমীকরণে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারেন।
আগামীকাল ব্যালট বক্স বা ইভিএম-এ যখন আঙুল ছোঁয়াবেন ভোটাররা, তখন হয়তো তাঁদের মনের মধ্যে থাকবে কোনো এক ‘নীরব বিপ্লব’-এর নকশা। বাংলা কি পরিবর্তনের নতুন কোনো সংকেত দেবে, নাকি স্থায়িত্বেই আস্থা রাখবে? উত্তর দেবে সময়।
এক নজরে হাইলাইটস:
মোট আসন: ১৫২। জেলা: ১৬টি।
মূল ইস্যু: নিয়োগ দুর্নীতি, আরজি কর কাণ্ড, স্বচ্ছ প্রশাসন।
নির্ণায়ক শক্তি: পরিযায়ী শ্রমিক ও মহিলা ভোটারদের নীরব ভোট।





