সিজেপি আদতে আম আদমি পার্টির ‘বি-টিম’? বিস্ফোরক অভিযোগে রাজনৈতিক মহলে চরম শোরগোল!

নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নফাঁস এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবিতে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ছাত্র-নেতৃত্বাধীন সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) বর্তমানে নিজেই এক বড়সড় বিতর্কের মুখে পড়েছে। জাতীয় রাজনীতিতে এখন জোরালো প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—এই সংগঠনের আন্দোলন ও ক্ষোভ কি তবে নির্দিষ্ট কিছু রাজ্যের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ? কেন্দ্রে শাসকদলের বিরুদ্ধে তারা লাগাতার সোচ্চার হলেও, পাঞ্জাব ও ঝাড়খণ্ডের মতো রাজ্যে পরীক্ষা সংক্রান্ত কেলেঙ্কারি ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে সিজেপির রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
সিজেপির বিরুদ্ধে দ্বিমুখী নীতির অভিযোগ
২০২৬ সালের মে মাসে আত্মপ্রকাশের পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় কোটি কোটি ফলোয়ার অর্জন করে দ্রুত নজর কেড়েছিল এই সংগঠন। ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে হাতিয়ার করে শুরু হওয়া অনলাইন ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের ধারাটিই পরবর্তীতে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে এক বিশাল ছাত্র আন্দোলনে রূপ নেয়। দিল্লির যন্তর মন্তরে সপ্তাহের পর সপ্তাহ চলা সেই বিক্ষোভে অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাসের মতো তরুণ মুখগুলো জাতীয় স্তরে পরিচিত হয়ে ওঠে।
তবে রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশের অভিযোগ, ঠিক একই সময়ে আম আদমি পার্টি (AAP)-শাসিত পাঞ্জাবে একাধিক প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (JPSC)-এর গুরুতর অনিয়ম নিয়ে সিজেপি সম্পূর্ণ নীরব রয়েছে। খোদ বিজেপির রাজ্যসভা সাংসদ স্বাতী মালিওয়াল সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, সিজেপি আদতে আম আদমি পার্টির ‘বি-টিম’ হিসেবে কাজ করছে। তাঁর দাবি, পাঞ্জাবে গত কয়েক বছরে বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটলেও অরবিন্দ কেজরিওয়াল বা সিজেপি নেতৃত্ব ইচ্ছাকৃতভাবে সেই ইস্যুগুলি এড়িয়ে গেছে। এমনকি কেজরিওয়ালের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরাই আর্থিক মদদ দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে তুলে ধরেছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
পাঞ্জাব সরকারের অবস্থান ও সিজেপি-র প্রতিক্রিয়া
অন্যদিকে, পাঞ্জাবের ভগবন্ত মান সরকার সমস্ত প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে। রাজ্য সরকারের দাবি, ফার্মাসি পরীক্ষার মতো বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলি নেহাতই কিছু ইলেকট্রনিক গ্যাজেটের সাহায্যে সংঘটিত ছোটখাটো অনিয়ম, কোনো বড় মাপের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা সেখানে ঘটেনি। মুখ্যমন্ত্রীর সাফ দাবি, তাঁদের শাসনকালে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গেই সমস্ত নিয়োগ ও পরীক্ষা পরিচালিত হয়েছে।
তা সত্ত্বেও অন্যান্য রাজ্যের এই স্পর্শকাতর ঘটনাগুলি নিয়ে বিরোধীদের লাগাতার তোপের মুখে পড়তে হচ্ছে সিজেপিকে। সমালোচকদের এই তীব্র আক্রমণের মুখে পড়ে সমাজকর্মী অভিজিৎ দীপকে প্রতিষ্ঠিত সিজেপি নেতৃত্বের তরফ থেকে বর্তমানে কেবল এইটুকুই জানানো হয়েছে যে, গোটা বিষয়টি নিয়ে ‘পরবর্তী পদক্ষেপের পরিকল্পনা চলছে’। দেশজোড়া এই আন্দোলনের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে আগামী দিনে সিজেপি নেতৃত্ব এই বিষয়ে ঠিক কী অবস্থান নেয়, এখন সেটাই দেখার।