সিকিমে সুড়ঙ্গে মর্মান্তিক ধস! মিথেন গ্যাস লিকের জেরে ৭ শ্রমিকের মৃত্যু, এখনও আটকে বহু!

সিকিমের নামচি জেলার সামারদুং এলাকায় এক মর্মান্তিক ও ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন অন্তত সাতজন শ্রমিক। সোমবার বিকেলে একটি নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে হঠাৎ করে ধস নামায় সেখানে বহু শ্রমিক ভেতরে আটকে পড়েন। এই বিপর্যয়ের জেরে সুড়ঙ্গের ভেতরে ভূগর্ভস্থ মিথেন গ্যাস লিক করতে শুরু করায় উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, বিষাক্ত গ্যাসের কারণে বেশ কয়েকজন উদ্ধারকর্মীও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এই চরম প্রতিকূল ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও প্রশাসন রাতভর একটানা অভিযান চালিয়ে এখনও পর্যন্ত সাতটি মৃতদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।

কীভাবে ঘটেছিল এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা? প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এনএইচপিসি (NHPC)-র স্টেজ সিক্স প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সিকিমের পাকিয়াং ও নামচি জেলার সংযোগকারী সামডুঙ এলাকায় টানেল নির্মাণের কাজ পুরোদমে চলছিল। সোমবার বিকেলে আচমকাই সুড়ঙ্গের ভেতরে বিকট শব্দে ধস নামে। ধসের জেরে সুড়ঙ্গের মুখ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভেতরে থাকা বহু শ্রমিক, ভারী গাড়ি ও সুড়ঙ্গ খনন করার একাধিক যন্ত্র আটকে পড়ে। দুর্ঘটনার প্রাথমিক খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পাকিয়াং পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং প্রাথমিক প্রচেষ্টায় ১৬ জন শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে পাঠায়।

উদ্ধারকাজে সবথেকে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিষাক্ত মিথেন গ্যাস। প্রশাসন সূত্রে খবর, ধস নামার ঠিক পরেই সুড়ঙ্গের ভেতরে থাকা ভূগর্ভস্থ মিথেন গ্যাস লিক করতে শুরু করে। প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিষাক্ত গ্যাস জমে যাওয়ায় উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রবেশ করতে গিয়ে চরম বাধার মুখে পড়েন। বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে উদ্ধারকর্মীদের অনেকেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবে জীবনের ঝুঁকি তুচ্ছ করে এনডিআরএফ (NDRF), রাজ্য পুলিশ, দমকল এবং অন্যান্য বিশেষ উদ্ধারকারী সংস্থার যৌথ দল যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

সুড়ঙ্গের ভেতরে ঠিক কতজন শ্রমিক আটকে রয়েছেন, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট পরিসংখ্যান দিতে পারেনি প্রশাসন। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, এখনও অন্তত ২৭ জন শ্রমিক মাটির নিচে সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে থাকতে পারেন। এলাকায় প্রবল বর্ষণ এবং নতুন করে ফের ধস নামার চরম আশঙ্কার কারণে উদ্ধারকাজে অত্যন্ত বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। সুড়ঙ্গের ভিতরের বাতাসের গুণমান (Air Quality) দফায় দফায় পরীক্ষা করে তবেই ধাপে ধাপে উদ্ধারকারী দলগুলোকে ভেতরে পাঠানো হচ্ছে। ঘটনাস্থলে একাধিক অত্যাধুনিক অ্যাম্বুল্যান্স, বিশেষ চিকিৎসক দল এবং জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা পুরোপুরি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আটকে থাকা বাকি শ্রমিকদের দ্রুত ও নিরাপদে উদ্ধার করতে সমস্ত প্রশাসনিক শক্তি একযোগে নিয়োগ করা হয়েছে।