সিকিমের ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে ধসের স্থায়ী ক্ষত, পর্যটন ও অর্থনীতিতে অশনি সংকেত

ফের বিপর্যস্ত ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক (NH-10)। শুক্রবার থেকে বিরিকদাড়ায় ব্যাপক ধসের কারণে কালিম্পং ও সিকিমগামী মূল সড়কটি দিনভর বন্ধ রয়েছে, শনিবারও যান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এই জাতীয় সড়কে লাগাতার ধসের ঘটনায় হিমালয়ের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই গুরুত্বপূর্ণ রুটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। একদা রাজ্যের দায়িত্বে থাকা এই সড়ক এখন কেন্দ্রীয় সংস্থা ন্যাশনাল হাইওয়ে অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেডের (NHIDCL) অধীনে। কিন্তু দায়িত্ব হস্তান্তরের পরেও রাস্তার বেহাল দশা কেন?

NHIDCL-এর তরফে জানানো হয়েছে, নিয়মিত ধস নামার কারণে মেরামতির কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সম্প্রতি সেবক ও কালিঝোরা সেকশনে বোল্ডার পড়ে রাস্তা অবরোধ হওয়ায় একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সে যাত্রায় দ্রুত ধস সরিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেলেও, বিরিকদাড়ার ঘটনা আরও বড় আকারের বিপর্যয়। শুক্রবার বেলা ১১টা নাগাদ যখন প্রচুর যানবাহন চলাচল করছিল, তখনই পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ দ্রুত গতিতে ভেঙে পড়তে শুরু করে। বিশেষজ্ঞরা একে ‘মাউন্টেন স্লাইড’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ভাগ্যক্রমে, দ্রুততার সঙ্গে যানবাহনগুলো সরিয়ে নেওয়ায় কোনো হতাহতের খবর নেই, তবে সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন।

অতীতের পুনরাবৃত্তি এবং পর্যটকদের দুর্ভোগ

এনএইচ-১০ এর এই দুর্দশা নতুন নয়। গত কয়েক বছর ধরেই বর্ষা এলেই এই সড়কে ধস নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগেও সিকিমে প্রবল বৃষ্টি ও ধসের কারণে পর্যটকদের বিপদে পড়তে হয়েছে, যেখানে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে উদ্ধারকার্যে নামতে হয়েছিল। এখন প্রশ্ন উঠছে, এই রুটের বারবার ধসে পড়ার পেছনে প্রাকৃতিক কারণের পাশাপাশি পরিকাঠামোগত ত্রুটি কতটা দায়ী?

বর্তমানে কালিম্পং ও সিকিমের সঙ্গে শিলিগুড়ির সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। ধসের পর থেকেই জাতীয় সড়কে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। কিছু যানবাহন তিস্তাবাজার, পেশক রোড, দার্জিলিং হয়ে ঘুরপথে চলাচল করছে। অন্যদিকে, শিলিগুড়ি থেকে কালিম্পং ও সিকিমগামী কিছু বাস, বিশেষত সিকিম ন্যাশনালাইজড ট্রান্সপোর্টের বাস সেবক থেকে ওদলাবাড়ি হয়ে গরুবাথান, কালিম্পং হয়ে যাতায়াত করছে। এই বিকল্প পথগুলো দীর্ঘ এবং সময়সাপেক্ষ হওয়ায় পর্যটক এবং স্থানীয়দের ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

স্থায়ী সমাধানের অভাব?

কেন্দ্রীয় সংস্থা দায়িত্ব নেওয়ার পরও যদি এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের এমন বেহাল দশা থাকে, তবে এর স্থায়ী সমাধানের পথ কী? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিমালয়ের ভঙ্গুর পার্বত্য অঞ্চলে সড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে অত্যন্ত সতর্ক হতে হয়। শুধুমাত্র মেরামতি নয়, আধুনিক ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা ও প্রকৌশলগত সমাধান প্রয়োগ করে ধস প্রবণ এলাকাগুলিকে চিহ্নিত করা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অন্যথায়, এই সড়ক বরাবরই এই অঞ্চলের অর্থনীতি ও পর্যটনের জন্য একটি উদ্বেগের কারণ হয়ে থাকবে।