যারা সারা বছর ধরে দুর্গাপূজার জন্য অপেক্ষা করে, তাদের জন্য দারুণ এক খবর। নিউ টাউনে তৈরি হতে চলেছে দেবী দুর্গাকে উৎসর্গ করে একটি বড় মন্দির-এর মতো জায়গা, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘দুর্গাঙ্গন’। সম্প্রতি রাজ্য মন্ত্রিসভা এই প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে এবং অবশেষে এর কাজও শুরু হতে চলেছে। এই প্রকল্পে খরচ হবে প্রায় ২৬২ কোটি টাকা।
কেন তৈরি হচ্ছে ‘দুর্গাঙ্গন’?
বাংলার দুর্গাপূজা শুধু একটি উৎসব নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতির একটি বড় অংশ। ইউনেস্কোও এই দুর্গাপূজাকে ‘বিশ্বের বিশেষ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই সম্মানকে আরও বড় করে তুলতে এবং বছরভর পর্যটকদের কাছে দুর্গাপূজার অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে রাজ্য সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে। দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের মতো করেই এই দুর্গাপূজার মন্দিরটি বানানো হবে। এখানে এলে মানুষ দুর্গাপূজার সব আয়োজন এবং আনন্দ সারাবছরই অনুভব করতে পারবে।
কোথায় তৈরি হচ্ছে এই মন্দির?
নিউ টাউনের ইকো পার্ক-এর উল্টো দিকে, ওয়েস্টিন হোটেলের কাছে একটি জমি বেছে নেওয়া হয়েছে। এই জায়গাটি বেছে নেওয়ার কারণ হলো, এখানে যাতায়াতের সুবিধা খুব ভালো। এটি বিমানবন্দর, মেট্রো স্টেশন এবং অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রগুলির কাছাকাছি হওয়ায় পর্যটকদের জন্য খুবই সুবিধাজনক হবে।
হিডকো (WBHIDCO) এই প্রকল্পের দায়িত্ব পেয়েছে এবং দ্রুত কাজ শুরু করার জন্য ঠিকাদার সংস্থা নিয়োগের কাজও শুরু হয়ে গেছে।
কী কী থাকবে এখানে?
দুর্গাঙ্গন শুধু একটি মন্দির হবে না, এটি একটি সাংস্কৃতিক এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করবে। এখানে থাকবে:
১. আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে তৈরি বিশাল কাঠামো।
২. সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করার জন্য আলাদা জায়গা।
৩. পর্যটকদের জন্য আরাম করার এবং বসার ব্যবস্থা।
রাজ্য সরকার জানিয়েছে, দুর্গাপূজার এই বিশেষ কেন্দ্রটি পর্যটন দপ্তর এবং হিডকো যৌথভাবে তৈরি করবে। এটিকে ভালোভাবে চালানোর জন্য একটি বিশেষ কমিটি বা ট্রাস্ট গঠন করা হবে, যার সদস্যরা শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে।
২০২৫ সালের ২১শে জুলাই শহীদ দিবসের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম এই স্থায়ী দুর্গামন্দির তৈরির কথা ঘোষণা করেছিলেন। সেই ঘোষণা এবার বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে। যদিও এর নির্মাণ কাজ কবে শেষ হবে, তা এখনও জানানো হয়নি, তবে কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।