সাইবার যুদ্ধ, অর্থপাচার, তথ্য চুরি, ১২,০০০ ভারতীয় মেডিক্যাল ছাত্র গোয়েন্দাদের স্ক্যানারে! পাকিস্তানের নতুন কৌশল কী?

ভারতের নিরাপত্তা অঙ্গনে নতুন করে চরম উদ্বেগের ছায়া ফেলেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI) এবার সন্ত্রাসের কৌশল আমূল পাল্টে ‘হোয়াইট–কলার টেরর মডিউল’ গঠনের দিকে ঝুঁকছে। তাদের নতুন লক্ষ্য—বিদেশে উচ্চশিক্ষারত ভারতীয় ছাত্ররা।
বিশেষ করে মেডিক্যাল ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে পড়তে যাওয়া ভারতীয় ছাত্রদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে সাইবার সন্ত্রাস, অর্থপাচার, ডিজিটাল র্যাডিক্যালাইজেশন ও কৌশলগত তথ্য-চুরির মতো কার্যক্রমে নিযুক্ত করার চেষ্টা চলছে।
‘গান ও গ্রেনেড’ নয়, এখন নতুন অস্ত্র ‘পেশাদার দক্ষতা’
গোয়েন্দাদের ভাষায়, “গান ও গ্রেনেডের সন্ত্রাস এখন আর আইএসআইয়ের একমাত্র অস্ত্র নয়। নতুন লক্ষ্য উচ্চদক্ষ শিক্ষিত ভারতীয় যুবকদের পেশাদার পরিচয়ের আড়ালে স্লিপার সেল তৈরি করা।”
এই নতুন ‘হোয়াইট–কলার টেররিস্ট’-রা সমাজের মূল স্রোতে মিশে যায়, ভালো ফলাফল করে এবং সাধারণ ছাত্রের মতোই থাকে। কিন্তু গোপনে তাদের মগজধোলাই করা হয়, যাতে তারা জনগণের নজরের বাইরে থেকেও দেশের শত্রুর কাজ করে যেতে পারে—আর এখানেই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।
১২,০০০ মেডিক্যাল ছাত্র গোয়েন্দাদের স্ক্যানারে
বিশেষ উদ্বেগের বিষয়, গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, প্রতিবেশী বাংলাদেশে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়তে যাওয়া ভারতীয় ছাত্রদের ওপর বিশেষ নজরদারি চলছে।
প্রায় ১২,০০০ ভারতীয় মেডিক্যাল ছাত্র বর্তমানে গোয়েন্দা সংস্থার স্ক্যানারে রয়েছেন।
বিশেষত যাঁরা ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় বাংলাদেশে অবস্থান করেছিলেন, সেই সময় বিদেশি শক্তি ও কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলোর প্রভাবে কিছু ভারতীয় ছাত্র অনলাইন র্যাডিক্যালাইজেশনের জালে জড়িয়ে পড়েছে বলে সন্দেহ।
গোয়েন্দা সূত্রের বক্তব্য, “যে ছাত্ররা চিকিৎসাশাস্ত্র ও প্রযুক্তি শিখছে, তাদের ব্যবহার করলে সন্ত্রাসবাদ অনেক বেশি মারাত্মক হতে পারে। কারণ এদের রয়েছে এনাটমি, কেমিস্ট্রি, টেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, সাইবার সিস্টেম ও আর্থিক লেনদেন সব বিষয়ে পেশাদার দক্ষতা। এগুলো ভুল হাতে পড়লে ক্ষতির মাত্রা কল্পনার বাইরে।”
‘সুরক্ষা ও পুনর্বাসন’কে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতসহ একাধিক দেশের গোয়েন্দা সংস্থা যৌথভাবে তথ্য আদানপ্রদান শুরু করেছে। নজরদারি চলছে আইএসআই ঘনিষ্ঠ অনলাইন গ্রুপ, ক্রিপ্টো ওয়ালেট, বিদেশি স্কলারশিপ, এবং মানবাধিকার সংগঠনের আড়ালে পরিচালিত চক্রগুলোর উপর।
কেন্দ্রীয় সরকার এক্ষেত্রে প্রধান তিনটি লক্ষ্য স্থির করেছে:
১. নিরাপত্তা ও মনিটরিং: বিদেশে থাকা ভারতীয় ছাত্রদের নিরাপত্তা ও মনিটরিং জোরদার করা। ২. সাইবার নজরদারি: অনলাইনে র্যাডিক্যালাইজেশন প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সাইবার নজরদারি বৃদ্ধি করা। ৩. কাউন্সেলিং: আইনি সাহায্য, পরামর্শ ও কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে ছাত্রদের সঠিক পথে থাকার সহায়তা দেওয়া।
সূত্র জানাচ্ছে, তদন্ত চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ছাত্রদের বিরুদ্ধে কোনও একতরফা পদক্ষেপ নয়, বরং “সুরক্ষা ও পুনর্বাসনকেই” অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যাতে কোনো নিরপরাধ ছাত্র ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।