‘দ্বিগুণ বেতন ও নিরাপত্তা’! উত্তরপ্রদেশে কর্মজীবী মহিলাদের জন্য ‘রাতের শিফট’ নিয়ে নতুন নিয়ম, কী কী সুবিধা পাবেন কর্মীরা?

কর্মজীবী ​​মহিলাদের আয় বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকার এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন থেকে যোগীরাজ্যে মহিলারা রাতের শিফটে কাজ করার অনুমতি পাবেন। লক্ষ লক্ষ মহিলার জন্য এটি একটি বড় সুযোগ।

রাজ্য সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপ মহিলাদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি করবে।

নাইট শিফটের নতুন সময় এবং দ্বিগুণ বেতন
যোগী সরকারের নতুন নিয়ম অনুসারে, উত্তরপ্রদেশে মহিলাদের জন্য রাতের শিফট সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। আগে এই সময় ছিল রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত।

তবে, এই শিফটে কাজ করার আগে মহিলা কর্মচারীর লিখিত সম্মতি নেওয়া নিয়োগকর্তার জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, রাতের শিফটে কাজ করার জন্য মহিলারা স্বাভাবিকের দ্বিগুণ বেতন পাবেন। ওভারটাইমের ক্ষেত্রেও রয়েছে বড় সুবিধা—প্রতি ত্রৈমাসিকে ওভারটাইমের সীমা ৭৫ ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে ১৪৪ ঘণ্টা করা হয়েছে, এবং এই ওভারটাইম স্বাভাবিক মজুরির দ্বিগুণ হারে দেওয়া হবে।

নিরাপত্তার কড়া মানদণ্ড: না মানলে বড় জরিমানা
উত্তরপ্রদেশ সরকার নিয়োগকর্তাদের জন্য নিরাপত্তার বিষয়ে কঠোর মানদণ্ড বেঁধে দিয়েছে। নাইট শিফটে কর্মরত মহিলাদের নিরাপত্তার জন্য নিম্নলিখিত ব্যবস্থাগুলি নেওয়া আবশ্যিক:

কর্মক্ষেত্রে সিসিটিভি নজরদারি।

মহিলা নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন।

রাতের শিফটের জন্য কর্মীর পরিবহণ (Transportation) ব্যবস্থা।

মহিলাদের জন্য স্বাস্থ্য ও বিশ্রামের আলাদা সুবিধা।

যদি কোনো কোম্পানি এই নতুন আইন অমান্য করে, তবে প্রথমবার অপরাধের জন্য ₹২,০০০ জরিমানা এবং দ্বিতীয়বার অপরাধের জন্য ₹১০,০০০ পর্যন্ত জরিমানা দিতে হবে। (আগে এই জরিমানা ছিল মাত্র ₹১০০ থেকে ₹৫০০)।

কাজের পরিধি ও হেল্পলাইন পরিষেবা
নতুন নির্দেশাবলী অনুসারে, আগে মহিলাদের মাত্র ১২টি শিল্প বিভাগে কাজের সুযোগ ছিল, কিন্তু এখন তা বাড়িয়ে ২৯টি শিল্প বিভাগে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্লিনিক, পলিক্লিনিক, পরিষেবা কেন্দ্র, হোম ডেলিভারি পরিষেবা এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।

মহিলাদের নির্ভয়ে কাজ করার সুবিধার্থে ১০৯০ মহিলা পাওয়ার লাইন, ১১২ হেল্পলাইন এবং অ্যান্টি-রোমিও স্কোয়াডের মতো পরিষেবাগুলি আরও জোরদার করা হচ্ছে। যোগী সরকার ১৯৬২ সালের দোকান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান আইন সংশোধন করে এই ঐতিহাসিক পরিবর্তন এনেছে।