সর্দার প্যাটেলের জন্মবার্ষিকীতে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ‘চূড়ান্ত লড়াইয়ের’ ডাক মোদীর! কাশ্মীর ইস্যুতে ফের কংগ্রেসকে আক্রমণ

ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ১৫০-তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার গুজরাটের **’স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’**তে তাঁর মূর্তিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই দিনটিকে কেন্দ্রীয় সরকার ‘জাতীয় একতা দিবস’ হিসেবে পালন করে। এদিনের অনুষ্ঠানেও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে উঠে আসে অনুপ্রবেশ এবং কাশ্মীর প্রসঙ্গ।

অনুপ্রবেশ নিয়ে মোদীর হুঁশিয়ারি:

প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “আজ, আমাদের জাতির ঐক্য এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা অনুপ্রবেশকারীদের জন্য গুরুতর হুমকির সম্মুখীন। কয়েক দশক ধরে, অনুপ্রবেশকারীরা আমাদের দেশে ঢুকে জনসংখ্যার ভারসাম্য নষ্ট করছে।” তিনি ঘোষণা করেন, “দেশ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে এক চূড়ান্ত লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জাতীয় একতা দিবসে, আমাদের দেশ থেকে প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে অপসারণের অঙ্গীকার করা উচিত।”

এছাড়াও, তিনি মাওবাদী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকারের কাজ তুলে ধরে জানান, দেশ থেকে নকশালবাদ এবং মাওবাদ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত তাঁর সরকার থামবে না।

নেহেরুকে আক্রমণ ও কাশ্মীর প্রসঙ্গ:

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কংগ্রেসকে আক্রমণ করে দাবি করেন, সর্দার প্যাটেল সমগ্র কাশ্মীরকে ভারতের সঙ্গে সম্পূর্ণরূপে একত্রিত করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু তা হতে দেননি।

স্ট্যাচু অফ ইউনিটির কাছে কুচকাওয়াজের পর সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে মোদি বলেন, “সর্দার প্যাটেল সমগ্র কাশ্মীরকে একত্রিত করতে চেয়েছিলেন, ঠিক যেমন তিনি অন্যান্য রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে করেছিলেন। কিন্তু নেহেরুজি তাঁর সেই ইচ্ছা পূরণ করতে দেননি। কাশ্মীরকে বিভক্ত করা হয়েছিল, একটি পৃথক সংবিধান এবং একটি পৃথক পতাকা দেওয়া হয়েছিল। কংগ্রেসের ভুলের কারণে জাতি কয়েক দশক ধরে সেই ভোগান্তি সহ্য করেছে।”

জাতীয় একতা দিবসের শপথ:

এদিন সকালে গুজরাতের নর্মদা জেলার একতা নগরের কাছে অবস্থিত ১৮২ মিটার উঁচু সর্দার প্যাটেলের মূর্তির কাছে পৌঁছে ফুল অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে তিনি জাতি ও দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতা রক্ষার জন্য শপথও নেন। তিনি বলেন, “আমি আমাদের দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতা রক্ষা করার জন্য শপথ নিচ্ছি… অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য নিজেকে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করছি।”

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সাল থেকে প্রতি বছর ৩১ অক্টোবর প্যাটেলের জন্মবার্ষিকী ‘জাতীয় একতা দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে। এই বছরের কুচকাওয়াজে বিএসএফ এবং সিআরপিএফের মতো আধাসামরিক বাহিনী এবং বিভিন্ন রাজ্য পুলিশ বাহিনী অংশ নেয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy