নির্বাচনের মুখে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক পারদ চড়ালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি সদর বিধানসভা কেন্দ্রের নারায়ণপুরে আয়োজিত তৃণমূল প্রার্থী কৃষ্ণ দাসের সমর্থনে এক জনসভায় যোগ দিয়ে বিজেপি প্রার্থী অনন্তদেব অধিকারীর বিরুদ্ধে তীব্র ব্যক্তিগত আক্রমণ শানালেন তিনি।
বিজেপি প্রার্থীকে নিয়ে বিস্ফোরক অভিষেক
এদিন মঞ্চ থেকে সরাসরি তোপ দেগে অভিষেক বলেন, “জলপাইগুড়ির বিজেপি প্রার্থী সারাদিন ঠিক অবস্থাতেই থাকেন না। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পড়ে থাকেন। মদ্যপানে আসক্ত। তাঁর চারিত্রিক সীমাবদ্ধতা আছে, মহিলাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন।” যদিও এই আক্রমণের পরেই তিনি যোগ করেন যে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কাউকে আঘাত করতে চান না, কেবল ‘সত্য’ তুলে ধরছেন।
বিজেপিকে খোলা চ্যালেঞ্জ
বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোর সাথে বাংলার উন্নয়ন প্রকল্পের তুলনা টেনে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। তিনি বলেন:
“বিজেপি শাসিত ১২টি রাজ্যের মধ্যে একটি রাজ্যেও যদি বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর মতো সুবিধা দিতে পারেন, তবে আমি রাজনীতি থেকে বিদায় নেব।”
পাশাপাশি তিনি আশ্বাস দেন, রাজ্যে তৃণমূল চতুর্থবার ক্ষমতায় আসার পর আবাস যোজনার বকেয়া টাকা এবং বার্ধক্যভাতা সরাসরি উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে।
চা-শ্রমিক ও রাজবংশী তাস
উত্তরবঙ্গের বড় ভোটব্যাঙ্ক চা-শ্রমিকদের মন জিততে অভিষেক ঘোষণা করেন, চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করা হবে। রাজবংশী সমাজকে নিয়ে বিজেপির ‘নারায়ণী ব্যাটালিয়ন’ প্রতিশ্রুতিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, বিজেপি রাজবংশী ভাইদের আবেগ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। তৃণমূল সরকার যে রাজবংশী ও কামতাপুরী ভাষাকে সরকারি স্বীকৃতি দিয়েছে, তার প্রমাণ হিসেবে কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রসচিবকে লেখা চিঠির প্রতিলিপিও জনসমক্ষে দেখান তিনি।
উন্নয়নের খতিয়ান বনাম ‘মোদি ট্যাক্স’
বিজেপি সাংসদ জয়ন্ত রায়ের রিপোর্ট কার্ড দাবি করে অভিষেক জানান, তৃণমূল জমানাতেই জলপাইগুড়িতে মেডিক্যাল কলেজ ও সার্কিট বেঞ্চ চালু হয়েছে। অন্যদিকে, রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি ও সারের দাম আকাশছোঁয়া হওয়া নিয়ে মোদি সরকারকে বিঁধে তিনি সাধারণ মানুষকে ‘প্রতিশোধ ও প্রতিবাদের’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
এডিটরস ইনসাইট: অভিষেকের এই আক্রমণাত্মক মেজাজ বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, উত্তরবঙ্গ দখলে তৃণমূল এবার কোনো জমি ছাড়তে রাজি নয়। বিশেষ করে প্রার্থীর ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে তোলা এই অভিযোগ নির্বাচনী ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।





