“সরকার গড়ার পথে বিজেপি”-বড় ঘোষণা কমিশনের! রাজ্যপালের কাছে পৌঁছল চিঠি

দেড় দশকের অপেক্ষার অবসান। বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বড়সড় পটপরিবর্তনের সাক্ষী থাকল বঙ্গভূমি। ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে এবার রাজ্যে ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি। নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়াকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে মঙ্গলবার বিধিবদ্ধ বিজ্ঞপ্তি জারি করল নির্বাচন কমিশন।

নতুন বিধানসভা গঠনের লক্ষ্যে কমিশনের এই আনুষ্ঠানিক নোটিফিকেশন ইতিমধ্যেই রাজ্যপাল সি. ভি. আনন্দ বোসের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আইনি ও সাংবিধানিক পথে বাংলায় নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পথ পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে গেল।

নির্বাচন কমিশনের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক এই প্রক্রিয়ার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জানান, “ফলাফল ঘোষণার পর নতুন বিধানসভা গঠনের বিজ্ঞপ্তি জারি করা একটি অতি প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক পদক্ষেপ। এই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমেই কমিশন তার দায়িত্ব সম্পন্ন করল। এখন নির্ধারিত প্রথা মেনে পরবর্তী সরকার গঠনের কাজ শুরু হতে পারে।”

কমিশন সূত্রে খবর, নির্বাচন চলাকালীন প্রতিটি স্তরে কড়া নিয়মবিধি মেনে চলা হয়েছে। এখন নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শপথ গ্রহণ এবং নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের তোড়জোড় শুরু হবে। কমিশনের দাবি, ভোটদান থেকে শুরু করে গণনা পর্যন্ত প্রতিটি প্রক্রিয়া অত্যন্ত স্বচ্ছ ও অবাধভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

এদিকে রাজনৈতিক মহলের নজর এখন শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের তারিখের দিকে। বিজেপি সূত্রের খবর অনুযায়ী, আগামী ১০ মে-র আগেই রাজ্যে নতুন সরকার দায়িত্ব বুঝে নিতে পারে। বিশেষ করে ২৫শে বৈশাখ বা ৯ মে তারিখটিকে কেন্দ্র করে জল্পনা তুঙ্গে। ওইদিন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী। দিল্লি ও রাজ্য নেতৃত্বের একাংশ চাইছে এই বিশেষ দিনটিতেই শপথগ্রহণ সেরে ফেলে এক নতুন আবেগের সূচনা করতে।

রাজভবনে কমিশনের এই চিঠি পৌঁছানোর পর এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। বাংলার মসনদে এবার কোন মুখগুলোকে দেখা যাবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল এখন চরমে।