কল্যাণীতে তিন জেলা—উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া এবং হুগলি—নিয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের প্রশাসনিক ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী ছবি ধরা পড়ল এই বৈঠকে। রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রশাসনিক পর্যালোচনা সভায় তৃণমূলের বিধায়ক ও সাংসদদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে এদিন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রশাসনিক বৈঠকে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে প্রতিটি এলাকায় ‘জনকল্যাণ শিবির’ আয়োজন করা হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো, রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের সমস্ত চলমান এবং আসন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা যেন প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছায়। এই বিশেষ শিবিরের মাধ্যমে মানুষ ভারত সরকার এবং রাজ্য সরকারের আটকে থাকা প্রকল্পগুলির সুবিধা নিশ্চিত করতে পারবেন।”
মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ১৫, ১৬ এবং ১৭ জুন রাজ্যজুড়ে এই জনকল্যাণ শিবিরগুলো পরিচালিত হবে। সাধারণ মানুষকে কোনো দীর্ঘসূত্রতা ছাড়াই প্রকল্পের আওতায় আনতে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অন্নপূর্ণা যোজনা এবং লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগামীকাল বিকেল থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য নতুন ফর্ম প্রকাশ করা হবে। এই ফর্মগুলি পূরণ করার প্রক্রিয়া যত দ্রুত সম্পন্ন হবে, সাধারণ মানুষ তত দ্রুত এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। তবে স্পষ্ট করে দিচ্ছি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প তার স্বাভাবিক নিয়মেই চলতে থাকবে, এতে কোনো পরিবর্তন নেই।”
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে এবার যোগ দিবস উৎসবের মতো করে পালন করা হবে। তবে মনে রাখতে হবে, এটি যেন শুধু ছবি তোলার বা লোকদেখানো অনুষ্ঠানে পরিণত না হয়। আয়ুষ দফতরের প্রোটোকল মেনে এবং নিয়মনিষ্ঠার সঙ্গে সকলকে যোগ ব্যায়ামে অংশগ্রহণ করতে হবে।”
প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পরিবর্তনের ঘোষণাও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, আয়ুষ দফতরকে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে আলাদা করা হবে এবং এই দফতরের কাজের তদারকির জন্য একজন বিশেষ অফিসার নিয়োগ করা হবে। সরকারের এই প্রশাসনিক তৎপরতা আগামী দিনে রাজ্যের সাধারণ মানুষের জীবনে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।





