সমুদ্রের অতন্দ্র প্রহরী! ‘টাইগার্স আই’ নিয়ে হাজির ভারতীয় নৌবাহিনীর নতুন ত্রাস আইএনএস মালভান!

প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আরও একধাপ আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে গেল ভারত। ভারতীয় নৌবাহিনীর শক্তি আরও বহুগুণ বাড়িয়ে, আগামী ২২শে জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবহরে যুক্ত হতে চলেছে অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ ‘আইএনএস মালভান’। কোচিন শিপইয়ার্ড লিমিটেড (সিএসএল) কর্তৃক নির্মিত এই জাহাজটি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের এক অনন্য নিদর্শন। এর প্রতীকে খোদাই করা ‘টাইগার’স আই’ বা ‘বাঘের চোখ’ যেমন সাহসের প্রতীক, তেমনই এর কার্যকারিতাও সমুদ্রের গভীর তলদেশে শত্রুর জন্য চরম আতঙ্ক।
আইএনএস মালভান হলো ‘মাহে-শ্রেণি’র ডুবোজাহাজ-বিধ্বংসী অগভীর জলের যুদ্ধজাহাজ (এএসডব্লিউ-এসডব্লিউসি)। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই যুদ্ধজাহাজটি ৮০ শতাংশেরও বেশি দেশীয় সরঞ্জাম ও প্রযুক্তিতে তৈরি। ভারতীয় নৌবাহিনীর দীর্ঘমেয়াদী ১৬টি ডুবোজাহাজ-বিরোধী অগভীর জলযান প্রকল্পের আওতায় এটি দ্বিতীয় জাহাজ। এই প্রকল্পের অধীনে কোচিন শিপইয়ার্ড এবং কলকাতার গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (জিআরএসই) যৌথভাবে মোট ১৬টি জাহাজ তৈরি করছে।
আইএনএস মালভানের মারাত্মক সব বৈশিষ্ট্য একে অন্যান্য জাহাজ থেকে আলাদা করে তুলেছে। অগভীর সমুদ্র বা উপকূলীয় এলাকায় শত্রু ডুবোজাহাজ শনাক্ত ও ধ্বংস করার জন্য এটি এক অপরাজেয় শক্তি। অত্যাধুনিক সোনার সিস্টেমের সাহায্যে পানির নিচে লুকিয়ে থাকা সাবমেরিনকে নিমেষেই চিহ্নিত করতে পারে এই যুদ্ধজাহাজ। এটি হালকা টর্পেডো এবং ডুবোজাহাজ-বিধ্বংসী অস্ত্রে সজ্জিত, যা নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদ করতে সক্ষম। এছাড়া মাইন পাতার ক্ষমতা এবং আকাশপথে ড্রোন বা স্বল্প পাল্লার হুমকি মোকাবিলায় এর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী।
এটি কেন বিশেষ? কারণ, বড় যুদ্ধজাহাজগুলো অনেক সময় উপকূলীয় অগভীর অঞ্চলে পৌঁছাতে পারে না। সেই সীমাবদ্ধতা দূর করতেই আইএনএস মালভানের জন্ম। এটি নিঃশব্দে শত্রু সাবমেরিন খুঁজে বের করে দ্রুত মারাত্মক আক্রমণ চালানোর সক্ষমতা রাখে। উপকূলীয় নিরাপত্তা, প্রহরা অভিযান এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের ক্ষেত্রেও এই যুদ্ধজাহাজটি হবে নৌবাহিনীর প্রধান হাতিয়ার। ২২শে জুলাইয়ের পর থেকে ভারত মহাসাগরের সুরক্ষায় এই ‘টাইগার্স আই’ এক নতুন পাহারাদার হিসেবে কাজ শুরু করবে।