ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের আইনি লড়াইয়ে এবার অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিল দেশের শীর্ষ আদালত। সোমবার শুনানির সময় মাইক্রো অবজারভারদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিল, দেশে কোনও ‘এক্সট্রা ইলেকশন অথরিটি’ বা অতিরিক্ত নির্বাচন কর্তৃপক্ষ তৈরি হতে দেওয়া যাবে না। মাইক্রো অবজারভাররা যেন নিজেদের ক্ষমতার বাইরে গিয়ে কাজ না করেন, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এদিন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে এই মামলার শুনানি চলে। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে মাইক্রো অবজারভাররা জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (DEO) বা ইআরও (ERO)-দের ওপর অযাচিত প্রভাব খাটাচ্ছেন। বিষয়টি শুনে প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, “সংবিধানে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের বাইরে অন্য কেউ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। মাইক্রো অবজারভারদের কাজ শুধুই সাহায্য করা, তাঁরা যেন সুপার-অথরিটি হয়ে না ওঠেন।”
আদালতের কড়া নির্দেশ:
-
চূড়ান্ত ক্ষমতা: ভোটার তালিকায় নাম রাখা বা বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন শুধুমাত্র ইআরও (ERO)-রাই। মাইক্রো অবজারভাররা কোনও নির্দেশ দিতে পারবেন না।
-
কার্যপরিধি: মাইক্রো অবজারভাররা শুধুমাত্র রিপোর্ট পেশ করবেন এবং ইআরও-দের তথ্য দিয়ে সাহায্য করবেন।
-
স্বচ্ছতা: ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় যাতে কোনও রাজনৈতিক প্রভাব না পড়ে এবং কোনও যোগ্য ভোটারের নাম যেন বাদ না যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
আদালতের এই পর্যবেক্ষণের পর রাজনৈতিক মহলের ধারণা, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ইন্ডিয়া জোট যে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছিল, তা সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ গুরুত্ব পেল। এই নির্দেশের ফলে মাইক্রো অবজারভারদের ক্ষমতা যেমন কাটছাঁট করা হলো, তেমনই ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় ইআরও-দের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা আরও বাড়িয়ে দিল শীর্ষ আদালত।