“সব শেষ করে দিল একটি ধাক্কা!”-কেরালায় ট্রলার ডুবে নিখোঁজ কুলতলির বাবা ও ছেলে

অভাবের তাড়নায় রুটিরুজির টানে কেরালায় পাড়ি দিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু মাছ ধরতে গিয়ে মাঝসমুদ্রে এমন ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হবে, তা দুঃস্বপ্নেও ভাবেনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলির দাস পরিবার। গত ৬ মার্চ কেরালার গভীর সমুদ্রে পণ্যবাহী জাহাজের ধাক্কায় ট্রলার উল্টে নিখোঁজ হলেন বাবা ও ছেলে।

ঘুমের মাঝেই ঘটে গেল বিপর্যয়

মর্মান্তিক এই ঘটনার শিকার কুলতলির বাসিন্দা লক্ষ্মণ দাস (৪২) এবং তাঁর ছেলে বাদল দাস (২০)। মাস তিনেক আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে মোট ১১ জন মৎস্যজীবী কেরালায় গিয়েছিলেন। গত ৬ মার্চ ‘কাটালি-২’ নামক একটি ট্রলারে চড়ে তাঁরা মাছ ধরতে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী:

  • দুপুরের দিকে সমুদ্রের মাঝখানে ট্রলারটি দাঁড় করিয়ে মৎস্যজীবীরা বিশ্রাম নিচ্ছিলেন।

  • অনেকেই তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন।

  • আচমকাই একটি বিশালাকার পণ্যবাহী জাহাজ এসে প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা মারে স্থির ট্রলারটিতে।

বাবাকে বাঁচাতে গিয়েই কি এই পরিণতি?

ধাক্কার চোটে ট্রলারটি ভারসাম্য হারিয়ে মাঝসমুদ্রে উল্টে যায়। প্রাণ বাঁচাতে অনেক মৎস্যজীবী জলে ঝাঁপ দিলেও লক্ষ্মণ দাস তখন ট্রলারের ভেতরে ঘুমোচ্ছিলেন। বাবাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করতে ছুটে গিয়েছিলেন ছেলে বাদল। কিন্তু ততক্ষণে জলমগ্ন হয়ে উল্টে যায় গোটা ট্রলারটি। চোখের পলকে সমুদ্রের ঢেউয়ে তলিয়ে যান বাবা ও ছেলে দুজনেই।

পরিবারে হাহাকার ও প্রশাসনের ভূমিকা

পরে অন্য একটি ট্রলার এসে বাকি আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে। কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও তল্লাশি চালিয়ে লক্ষ্মণ ও বাদলের কোনও হদিস মেলেনি। এই খবর কুলতলিতে পৌঁছাতেই কান্নায় ভেঙে পড়েছে পরিবার। পরিবারের দুই উপার্জক্ষম সদস্যকে ফিরে পাওয়ার আশায় স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা। কুলতলির বিধায়ক গণেশচন্দ্র মণ্ডল জানিয়েছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি তদারকি করছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সবরকম আশ্বাস দিয়েছেন।

কেরালার উপকূলে ভিনরাজ্যের মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল এই দুর্ঘটনা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy