সবুজ সংকেত কি মিলেছে? শুভেন্দু অধিকারীর দিল্লি মিশন নিয়ে তুঙ্গে জল্পনা, রহস্যে মোড়া গন্তব্য!

রাজ্য রাজনীতিতে ফের একবার চর্চার কেন্দ্রে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার দুপুরে কাঁথির নিজস্ব বাসভবন ‘শান্তিকুঞ্জ’ থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা হলেন তিনি। তবে এই যাত্রার গন্তব্য কি শুধুই কলকাতা, নাকি নেপথ্যে রয়েছে হাইভোল্টেজ কোনো দিল্লি সফর? এই প্রশ্ন ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতির অন্দরমহলে জল্পনা তুঙ্গে। বিশেষত, দিল্লি যাত্রা নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর বজায় রাখা চরম গোপনীয়তা রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

এদিন সকাল থেকেই শান্তিকুঞ্জ সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তার কড়াকড়ি ছিল চোখে পড়ার মতো। কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে মুড়ে ফেলা হয়েছিল গোটা চত্বর। বিরোধী দলনেতার কনভয় যখন শান্তিকুঞ্জ থেকে বের হয়, তখন রাস্তার দু’পাশে কড়া নজরদারি চালায় পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীরা। সাধারণত কোনো কর্মসূচিতে যাওয়ার আগে শুভেন্দু অধিকারী সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ইঙ্গিত দেন। কিন্তু আজকের এই সফর ঘিরে ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। সংবাদমাধ্যমের ভিড় থাকলেও তিনি কোনো কথা বলেননি, বরং শান্তিকুঞ্জ ছেড়ে দ্রুত গতিতে তাঁর কনভয় কলকাতার দিকে রওনা দেয়।

সূত্রের খবর, কলকাতায় পৌঁছানোর পর তিনি বিকেলের বিমানে দিল্লি উড়ে যেতে পারেন। গত কয়েকদিনে রাজ্যের প্রশাসনিক একাধিক ইস্যুতে সরব হয়েছেন তিনি। বিশেষ করে সন্দেশখালি থেকে শুরু করে রাজ্যের নিয়োগ দুর্নীতি—সব মিলিয়ে তাঁর হাতে বড় কোনো ‘তথ্য’ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের উদ্দেশ্যেই এই গোপন সফর কি না, তা নিয়ে সরগরম রাজনৈতিক বৃত্ত। যদিও তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, এটি একটি পূর্ব নির্ধারিত সফর এবং কলকাতা যাওয়ার কর্মসূচি অনেক আগে থেকেই ঠিক ছিল।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর এই সময়কালে দিল্লি যাত্রা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্য বিধানসভার আসন্ন কৌশল নির্ধারণ এবং শাসক দলের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় এজেন্সির তৎপরতা বাড়াতে এই সফর বড় ভূমিকা নিতে পারে। কাঁথি থেকে কলকাতা পর্যন্ত তাঁর এই যাত্রাপথে যে বিশেষ নিরাপত্তার বলয় দেখা গিয়েছে, তা সাধারণত হাই-প্রোফাইল রাজনৈতিক মুভমেন্টের ক্ষেত্রেই দেখা যায়। এখন দেখার, কলকাতায় পা রাখার পর কি সত্যিই দিল্লির বিমান ধরবেন তিনি, নাকি এটি শুধুই রুটিন সফর। উত্তরের অপেক্ষায় বাংলার রাজনৈতিক মহল।