‘সবাই শুধু বৃষ্টিতে ভিজতে বলত!’ গ্ল্যামার দুনিয়ার অন্ধকার দিক নিয়ে বিস্ফোরক জিনাত আমান

বলিউডের সত্তরের দশকের গ্ল্যামার কুইন জিনাত আমান। তাঁর চোখের জাদুতে এবং অনবদ্য গ্ল্যামারে মুগ্ধ ছিল গোটা ভারত। কিন্তু ক্যামেরার পেছনের সেই ঝকঝকে দুনিয়ার আড়ালে যে এক কঠিন বাস্তব লুকিয়ে ছিল, তা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অকপটে স্বীকার করলেন এই প্রবীণ অভিনেত্রী। দীর্ঘদিনের ‘সেক্স সিম্বল’ ইমেজ এবং ইন্ডাস্ট্রির মানসিকতা নিয়ে তিনি তুলে ধরলেন একরাশ ক্ষোভ।
‘অভিনয় নয়, চাহিদা ছিল গ্ল্যামারের’ সম্প্রতি শুভা আয়ারাপ্পার ইউটিউব চ্যানেলে এক খোলামেলা আলোচনায় জিনাত জানান, তাঁর পর্দা ও বাস্তবের চরিত্রের মধ্যে বিশাল ব্যবধান ছিল। তিনি বলেন, “আমার বুদ্ধিমত্তা বা চিন্তাভাবনা নিয়ে ইন্ডাস্ট্রির মানুষের কোনো আগ্রহ ছিল না। সবার আগ্রহ ছিল কেবল—গান গাইবে, নাচবে, দুটো সংলাপ বলবে আর বৃষ্টিতে ভিজবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, অভিনয়ের পরিমিত অবদান থাকা সত্ত্বেও প্রোডাকশন হাউসের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত চাপ আসত শরীর প্রদর্শন করার। অনেক সময় জোর করা হতো ক্লিভেজ বা পিঠ উন্মুক্ত রাখার জন্য, যা একজন অভিনেত্রী হিসেবে তাঁর জন্য ছিল চরম অস্বস্তিকর।
বাস্তব জিনাত বনাম পর্দায় জিনাত ৭০ ও ৮০-র দশকে জিনাত আমান মানেই ছিল বক্স অফিসে সাফল্যের গ্যারান্টি। ‘সত্যম শিবম সুন্দরম’, ‘ডন’, ‘হরে রামা হরে কৃষ্ণা’—এমন অসংখ্য ব্লকবাস্টার ছবির হাত ধরে তিনি হয়ে উঠেছিলেন ‘সেক্স সিম্বল’। কিন্তু জিনাত জানালেন, ভক্তরা যখন বাস্তবে তাঁর মুখোমুখি হতেন, তখন অবাক হয়ে যেতেন। কারণ পর্দায় তাঁকে যে লঘু ও লাস্যময়ী চরিত্রে দেখানো হতো, বাস্তব জীবনে তিনি ছিলেন তার সম্পূর্ণ বিপরীত একজন ব্যক্তিত্ব।
দীর্ঘ লড়াইয়ের স্মৃতি মিস এশিয়া প্যাসিফিক খেতাব জেতার পর থেকে বলিউডে টিকে থাকার লড়াইয়ে তাঁকে প্রতিনিয়ত গ্ল্যামারের খোলসের ভেতরে থাকার জন্য বাধ্য করা হয়েছে। অভিনয়ের চেয়ে তাঁর বাহ্যিক রূপকেই যে বড় করে দেখা হয়েছিল, তা আজও তাঁকে পীড়া দেয়।
সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলেও জিনাত তাঁর ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সিনেমার স্মৃতিচারণ করেন। তবে নতুন প্রজন্মের কাছে জিনাতের এই সাহসী স্বীকারোক্তি বলিউডে নারী অভিনেত্রীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি ও লিঙ্গ বৈষম্যের এক জ্বলন্ত দলিল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।