বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার রেশ কাটতে না কাটতেই রাজনৈতিক হিংসায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল খাস কলকাতার বেলেঘাটা। ভোটের ফল বেরোনোর দিনই এক তৃণমূল কর্মীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। মৃত যুবকের নাম বিশ্বজিৎ পট্টনায়ক (৪৪)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক দল বিজেপির বিরুদ্ধে ‘বহিরাগত’ এনে সন্ত্রাস চালানোর গুরুতর অভিযোগ তুলেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: পরিবার সূত্রে খবর, মঙ্গলবার ভোট গণনার দিন নিরাপত্তার খাতিরে বিশ্বজিৎবাবু সারাদিন বাড়িতেই ছিলেন। কিন্তু সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ তাঁর মোবাইলে একটি ফোন আসে। ফোনের ওপার থেকে কে কী বলেছিল তা স্পষ্ট না হলেও, ফোন পাওয়া মাত্রই তড়িঘড়ি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান তিনি। এরপর থেকেই তাঁর ফোন বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ নিখোঁজ থাকার পর বাড়ির অদূরেই তাঁর রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন প্রতিবেশীরা।
মৃতের পরিবারের বয়ান: নিহত বিশ্বজিতের বোনের দাবি, দাদাকে বাড়ি থেকে বেরোতে বারবার নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু একটি রহস্যময় ফোন কল আসার পরেই তিনি সব সতর্কতা ভুলে বেরিয়ে যান। পরিবারের পক্ষ থেকে বেলেঘাটা থানায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে খুনের মোটিভ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশায় রয়েছে পুলিশ।
কুণাল ঘোষের বিস্ফোরক অভিযোগ: বেলেঘাটা কেন্দ্র থেকে সদ্য জয়ী তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ এদিন এনআরএস হাসপাতালে বিশ্বজিতের ময়নাতদন্তের সময় পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। সেখানেই তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন, “গণনা শেষ হওয়ার পর থেকেই বেলেঘাটা জুড়ে রাজনৈতিক সন্ত্রাস চালাচ্ছে বিজেপি। ওরা বাইরে থেকে গুন্ডা এনে এলাকায় হামলা চালাচ্ছে। তৃণমূলের পার্টি অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে এবং আমাদের একনিষ্ঠ কর্মী বিশ্বজিৎ পট্টনায়ককে খুন করা হয়েছে।” এই ঘটনার বিচার চেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে ঘাসফুল শিবির।
অস্বস্তিতে এলাকা: জয়ের মেজাজের মধ্যেই সতীর্থের এই আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া বেলেঘাটার তৃণমূল শিবিরে। যদিও বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। খাস কলকাতায় এই খুনের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং পুলিশ খতিয়ে দেখছে ওই রহস্যময় ফোনটি কার ছিল।





