পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগে মতুয়াগড় ঠাকুরনগরে দাঁড়িয়ে এক নয়া রণকৌশল নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের ‘তুরুপের তাস’ মহিলা ভোটব্যাঙ্কেই এবার সরাসরি থাবা বসালেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, তৃণমূলের শাসনে পশ্চিমবঙ্গের মহিলারাই আজ সবচেয়ে বেশি প্রতারিত এবং ক্রুদ্ধ।
তৃণমূলের ওপর রাগের কারণ: এদিন জনসভায় প্রধানমন্ত্রী সাফ বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মায়েরা ও বোনেরা তৃণমূলের ওপর সবথেকে বেশি রেগে আছেন। কারণ, যে সরকার তাঁদের সুরক্ষা দেওয়ার কথা ছিল, সেই সরকারই আজ দুষ্কৃতীদের আড়াল করছে।” তিনি সন্দেশখালির প্রসঙ্গ টেনে অভিযোগ করেন, তৃণমূলের ‘জঙ্গলরাজ’-এর শিকার হতে হয়েছে মা-বোনেদের। আরজি কর থেকে শুরু করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া নারী নির্যাতনের ঘটনাগুলো বাংলার নারী সমাজ ভোলেনি বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
নারীশক্তির জন্য ‘মোদী গ্যারান্টি’: মহিলাদের ক্ষোভকে ভোটে রূপান্তর করতে প্রধানমন্ত্রী একগুচ্ছ বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন:
বছরে ৩৬,০০০ টাকা: বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলার মহিলাদের অ্যাকাউন্টে বছরে ৩৬ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি।
সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণ: মহিলাদের জন্য সরকারি চাকরিতে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের ঘোষণা।
সুরক্ষার নিশ্চয়তা: ৪ মে-র পর (ভোটের ফলপ্রকাশের পর) অপরাধীদের খুঁজে বের করে শাস্তির কড়া ‘গ্যারান্টি’ দেন তিনি।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা: মেয়েদের স্নাতক হওয়া পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা এবং মরণব্যাধি ক্যানসার পরীক্ষার জন্য নিখরচায় স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রতিশ্রুতি।
রাজনৈতিক লক্ষ্য: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো প্রকল্পের মাধ্যমে তৃণমূল যে বিশাল মহিলা ভোট ধরে রেখেছে, তাতে ফাটল ধরাতেই মোদী আজ ঠাকুরনগরকে বেছে নিয়েছেন। মতুয়াদের ধর্মীয় আবেগ আর নারীশক্তির ক্ষোভ—এই দুইকে মিলিয়েই দ্বিতীয় দফার আগে মাস্টারস্ট্রোক দিতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
এক নজরে প্রধানমন্ত্রীর আক্রমণ:
তৃণমূলের ‘জঙ্গলরাজ’-এর প্রধান শিকার বাংলার মেয়েরাই।
“নারীদের জন্য তৃণমূলের বিচার নেই, আছে কেবল উপেক্ষা।”
বিজেপি ক্ষমতায় এলে অপরাধীদের ‘পাতাল’ থেকেও খুঁজে বের করার হুঁশিয়ারি।





