‘সন্দেশখালির কায়দায় অত্যাচার’,-TMC-র ওই পার্টি অফিসে স্কুলের ইউনিফর্ম, কন্ডোম!

দীর্ঘদিনের আতঙ্কের অবসান! সরকার পরিবর্তনের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের সাহস ও উদ্যোগের জেরে প্রকাশ্যে এল তৃণমূলের এক পরিত্যক্ত পার্টি অফিসের অন্ধকার দিক। বুধবার সকালে ঘাটাল ব্লকের রাধানগর এলাকায় তৃণমূলের একটি বন্ধ পার্টি অফিসের তালা ভাঙতেই বেরিয়ে এল একের পর এক বিতর্কিত সামগ্রী। উদ্ধার হওয়া জিনিসের তালিকায় রয়েছে স্কুলের ইউনিফর্ম, প্রচুর স্বাস্থ্যসাথী কার্ড, বিছানাপত্র এবং কন্ডোমের প্যাকেট, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

যা যা উদ্ধার হয়েছে: এদিন তৃণমূলেরই পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য বিজয় মান্ডির উপস্থিতিতে পার্টি অফিসের তালা ভাঙা হয়। অফিস খুলতেই স্থানীয়দের সামনে উঠে আসে এক নগ্ন ছবি। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার বদলে সেখানে মজুত ছিল স্কুলের ইউনিফর্ম ও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড। এর পাশাপাশি কন্ডোমের প্যাকেট মেলায় পার্টি অফিসটি অসামাজিক কার্যকলাপের আখড়ায় পরিণত হয়েছিল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ: পার্টি অফিসের অন্দরের দৃশ্য দেখে স্তম্ভিত গ্রামবাসীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। স্থানীয় মহিলাদের অভিযোগ, তৃণমূল জমানায় এই অফিসকে কেন্দ্র করেই চলত মহিলাদের ওপর চূড়ান্ত অত্যাচার। ভোটের আগে হুমকি দেওয়া, বিরোধী সমর্থক পরিবারের সরকারি সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া কিংবা বাড়ি ভাঙচুরের মতো অগণিত অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় নেতৃত্ব বীরসিংহ অঞ্চলের সভাপতি অনন্ত রায় ও প্রধান প্রশান্ত রায়ের বিরুদ্ধে। এক ভুক্তভোগী মহিলার কথায়, “তৃণমূল যতদিন ছিল, ততদিন মহিলাদের কোনো সম্মান ছিল না। ভয়ে এতদিন কেউ মুখ খোলার সাহস পাননি।”

কী বলছে রাজনৈতিক মহল? তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য বিজয় মান্ডি পুরো দায়ভার এড়িয়ে গিয়ে জানিয়েছেন, তিনি শুধু নির্দেশে অফিস খুলেছেন। তৃণমূলের ব্লক সভাপতি দিলীপ মাজি অবশ্য জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

অন্যদিকে, তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন ঘাটালের বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাট। তিনি বলেন, “সন্দেশখালির শেখ শাহজাহান শুধু একটি নাম নয়, রাজ্যের প্রতিটি বুথে শাসকদলের নেতারা শাহজাহানের মতো আচরণ করেছে। মহিলাদের সম্মানহানি থেকে সরকারি সম্পদ লুট—সবই হয়েছে এই পার্টি অফিসের আড়ালে। এদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”

বর্তমানে এলাকা জুড়ে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা রয়েছে। স্থানীয়রা এই পার্টি অফিসের সঙ্গে যুক্ত তৃণমূল নেতাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে সরব হয়েছেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy