ভোটের বাংলায় আজ সবার নজর একজনের দিকেই—তিনি উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের দুঁদে আইপিএস তথা ‘এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট’ অজয় পাল শর্মা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলায় পুলিশ অবজার্ভার হিসেবে তাঁর নিয়োগ ঘিরে গত কয়েকদিন ধরেই সরগরম রাজনীতি। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের দিন সকাল থেকেই নিজের ‘দাবাং’ ইমেজে ধরা দিলেন এই ডেন্টিস্ট-টার্নড-অফিসার।
মাঠে নেমে ‘সিংহাম’ অবতার
বুধবার সকাল থেকেই ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক কার্যত নিজের দখলে নিয়েছেন অজয় পাল শর্মা। হটুগঞ্জ থেকে শিরাকল—প্রতিটি পুলিশ চৌকিতে দাঁড়িয়ে ডিউটিরত অফিসারদের কড়া নির্দেশ দিচ্ছেন তিনি। ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে তাঁর কনভয় যখন এগোচ্ছে, তখন সাধারণ মানুষের চোখেমুখেও ধরা পড়ছে কৌতূহল। বিশেষ করে ফলতা ও ডায়মন্ড হারবার শহরের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে তাঁর বিশেষ নজর রয়েছে।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে স্ট্র্যাটেজি
ডায়মন্ড হারবারের ভারত সেবাশ্রম সংঘে অবস্থিত কেন্দ্রীয় বাহিনীর ক্যাম্পে গিয়ে বাহিনীর উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন অজয় পাল শর্মা। সেখানে তাঁর উপস্থিতিতেই রাস্তায় নামানো হয়েছে সাজোয়া গাড়ি। উল্লেখ্য, গতকালই ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের বাড়ি গিয়ে ‘কায়দায় ইলাজ’ করার হুঁশিয়ারি দিয়ে চর্চায় এসেছিলেন তিনি। আজ ভোটের দিন কোনো ঝুঁকি না নিয়ে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার প্রতিটি ব্লকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহলদারি নিশ্চিত করছেন তিনি।
বিতর্ক ও দাপট
ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেস তাঁর নিয়োগের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। তবে সেই বিতর্কের তোয়াক্কা না করেই নিজের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন শর্মা। বাহিনীর হেডকোয়ার্টার থেকে শুরু করে বুথের অলিগলি—সর্বত্রই আজ অজয় পাল শর্মার কড়া নজরদারি। বিরোধীরা তাঁকে ‘সিংহাম’ বলে স্বাগত জানালেও, শাসক শিবিরের অভিযোগ তিনি ভোটারদের ‘ভীতি প্রদর্শন’ করছেন। কিন্তু দিনের শেষে অজয় পাল শর্মার লক্ষ্য একটাই—অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটদান।





