২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে সবথেকে বড় চমকটি দিল তৃণমূল কংগ্রেস। নন্দীগ্রামে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে তৃণমূল দাঁড় করাল তাঁরই একসময়ের ছায়াসঙ্গী এবং বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন সহ-সভাপতি পবিত্র করকে। মঙ্গলবার সকালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগদান এবং বিকেলেই প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা— পবিত্রর এই উল্কাগতিতে উত্থান ঘিরে সরগরম পূর্ব মেদিনীপুর।
কে এই পবিত্র কর?
নন্দীগ্রামের ভূমিপুত্র পবিত্র করের রাজনৈতিক জীবন বেশ বৈচিত্র্যময়:
তৃণমূল থেকে বিজেপি: একসময় বয়াল ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ছিলেন। ২০২০ সালে দিলীপ ঘোষের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন।
শুভেন্দু ঘনিষ্ঠতা: বিজেপিতে থাকাকালীন শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত বিশ্বস্ত বলে পরিচিত ছিলেন এবং নন্দীগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের সংগঠন সামলাতেন।
পারিবারিক সমীকরণ: তাঁর স্ত্রী বর্তমানে বয়াল ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপি প্রধান। স্বামীর প্রার্থী হওয়ার পর তিনিও ঘাসফুল শিবিরে যোগ দিয়েছেন।
বিতর্কিত অতীত: তৃণমূল কর্মী খুনের দায়ে জেল
পবিত্র করের মনোনয়ন ঘিরে সবথেকে বড় কাঁটা হলো তাঁর অতীত রেকর্ড। ২০২১-এর বিধানসভা ভোটের আগে নন্দীগ্রামে তৃণমূল কর্মী রবীন্দ্রনাথ মান্না খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ছিলেন এই পবিত্র।
সিআইডি (CID)-র দেওয়া চার্জশিটের ১৫ নম্বরে তাঁর নাম রয়েছে।
এই মামলায় প্রায় ৬ মাস জেল খাটতে হয়েছে তাঁকে।
এখন প্রশ্ন উঠছে, যাঁর বিরুদ্ধে নিজেদের কর্মীকে খুনের অভিযোগ ছিল, তাঁকে তৃণমূল কর্মীরাই কি মন থেকে মেনে নিতে পারবেন?
তৃণমূলের ‘মাস্টারস্ট্রোক’ না কি ঝুঁকি?
রাজনৈতিক মহলে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিমুখী মত রয়েছে:
তৃণমূলের রণনীতি: শুভেন্দুর ঘরের মাঠের সংগঠন এবং নাড়িনক্ষত্র পবিত্রর নখদর্পণে। তাঁকে প্রার্থী করে শুভেন্দুর ভোটব্যাঙ্কে ফাটল ধরাতে চাইছে নবান্ন। অধ্যাপক প্রতীপ চট্টোপাধ্যায়ের মতে, “পবিত্র কর স্থানীয় সংগঠক হওয়ায় এটি বিজেপির জন্য বড় ধাক্কা।”
বিজেপির অবস্থান: শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে এই লড়াইকে তৃণমূলের ‘ভয়’ হিসেবেই দেখছে গেরুয়া শিবির। তাঁদের দাবি, খুনে অভিযুক্ত একজনকে প্রার্থী করা তৃণমূলের নৈতিক দেউলিয়াপনা।
শুভেন্দু অধিকারী এবার নন্দীগ্রামের পাশাপাশি মমতার গড় ভবানীপুর থেকেও লড়ছেন। এই ‘অ্যাওয়ে’ ম্যাচে শুভেন্দুকে রুখতে পবিত্র কর কতটা সফল হন, তার উত্তর মিলবে আগামী ৪ মে ভোটের ফলাফল প্রকাশের দিন।