দেশে মোবাইল নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং ফোন চুরি ও আইএমইআই জালিয়াতি রুখতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। টেলিকম বিভাগ নির্দেশ জারি করেছে যে, আগামী দিনে ভারতে উৎপাদিত বা আমদানি হওয়া প্রতিটি নতুন স্মার্টফোনেই আগেভাগে ইনস্টল করে দিতে হবে সরকারের ‘সঞ্চার সাথী’ (Sanchar Saathi) অ্যাপ।
২৬ নভেম্বর জারি হওয়া এই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে:
বাধ্যতামূলক ইনস্টলেশন: মোবাইল সেটআপের প্রথম পর্বেই অ্যাপটি ব্যবহারকারীর কাছে দৃশ্যমান ও ব্যবহারবান্ধব হতে হবে। প্রস্তুতকারকদের কোনোভাবেই এর ফিচার গোপন বা নিষ্ক্রিয় রাখার অনুমতি নেই।
সময়সীমা: নির্দেশ কার্যকর করতে প্রস্তুতকারকদের ৯০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। এর ১২০ দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে সম্পূর্ণ কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট।
পুরনো মডেলেও: বাজারে থাকা পুরনো মডেলগুলিতেও সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে অ্যাপটি যুক্ত করতে হবে।
প্রযোজ্য: এই নির্দেশিকা অ্যাপল, স্যামসাং, গুগল, ভিভো, অপ্পো, শাওমি সহ দেশের সমস্ত বড় ফোন নির্মাতার জন্য প্রযোজ্য।
<h4>’সঞ্চার সাথী’ অ্যাপে কী আছে?</h4>
টেলিকম সাইবার সিকিউরিটি রুলসের আওতায় তৈরি এই অ্যাপটিকে কেন্দ্র সাইবার জালিয়াতি ও চুরি হওয়া ফোনের ব্যবসা মোকাবিলার শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরছে। এই অ্যাপের মূল ফিচারগুলি হলো:
নকল বা চুরি হওয়া ফোন শনাক্তকরণ।
আইএমইআই নম্বর যাচাই করে ডিভাইসের বৈধতা পরীক্ষা।
সন্দেহজনক কল বা মেসেজের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা।
নিজের নামে থাকা সমস্ত মোবাইল কানেকশনের তালিকা দেখা।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের যাচাইকৃত যোগাযোগ তথ্য পাওয়া।
উল্লেখ্য, নতুন টেলিযোগাযোগ আইন ২০২৩ অনুযায়ী, মোবাইলের ১৫-সংখ্যার আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন বা জালিয়াতি করা একটি জামিনযোগ্য অপরাধ, যার শাস্তি তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
<h4>বিরোধীদের কঠোর আপত্তি: ‘বিগ ব্রাদার নজরদারি'</h4>
কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিরোধী দলগুলি তীব্র আপত্তি জানিয়েছে। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি ভেনুগোপাল এটিকে সরাসরি অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়েছেন।
গোপনীয়তা লঙ্ঘন: তাঁর দাবি, এটি নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার লঙ্ঘন করছে। তিনি বলেন, “বিগ ব্রাদার আমাদের ওপর নজরদারি করতে পারে না। সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে সুরক্ষিত মৌলিক অধিকার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও গোপনীয়তার বিরুদ্ধে এ একটি বিপজ্জনক পদক্ষেপ।”
নজরদারির আশঙ্কা: তাঁর মতে, আনইনস্টল করা যায় না এমন একটি প্রি-লোডেড সরকারি অ্যাপ সাধারণ নাগরিকের প্রতিটি পদক্ষেপ, মিথস্ক্রিয়া এবং সিদ্ধান্তের ওপর নজরদারি করার পথ খুলে দেয়।
শিবসেনা নেতা আদিত্য ঠাকরেও এই সিদ্ধান্তকে ‘স্বৈরাচার’ বলে কটাক্ষ করেছেন।
নিরাপত্তা বনাম গোপনীয়তার এই টানাপোড়েনের মাঝেই মোবাইল বাজারে বড় ধরনের বদল আসতে চলেছে।