সংসদ চত্বরে রণক্ষেত্র! নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে বিশাল মিছিল সিজেপির, পুলিশের লাঠিচার্জে রক্তে ভিজল রাজধানী

দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা নিট কেলেঙ্কারির (NEET 2026 Scam) বিরুদ্ধে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের (Dharmendra Pradhan) অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে সোমবার সকালে এক বিস্ফোরক রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (Cockroach Janta Party) বা সিজেপির ডাকে হাজার হাজার প্রতিবাদী মানুষের অংশগ্রহণে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী দিল্লি। আন্দোলনকারীদের রুখে দিতে দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) পক্ষ থেকে ১৬৩ ধারা জারি করে পুরো রাজধানীকে কার্যত এক দুর্ভেদ্য নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছিল। কিন্তু সমস্ত প্রশাসনিক নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এদিন সকালেই সংসদের উদ্দেশে বিশাল মিছিল নিয়ে এগিয়ে যান আন্দোলনকারীরা। মিছিল কিছুদূর এগোতেই ব্যারিকেড দিয়ে পথ আটকায় পুলিশ, এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় ব্যাপক লাঠিচার্জ (Lathicharge) করা হয়।

এদিনের এই মেগা সংসদ অভিযানে প্রায় ৮ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। সিজেপির পূর্বঘোষিত এই কর্মসূচি ঘিরে গত এক মাস ধরে চলা নিট আন্দোলনের পারদ চড়তে চড়তে চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। উল্লেখ্য, গত জুনের শেষ থেকে লাদাখের বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক যন্তরমন্তরে আমরণ অনশনে (Hunger Strike) বসেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হওয়ায় গত শনিবার দিল্লি পুলিশ তাঁকে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে। স্বামীর অবর্তমানে এই প্রতিবাদ মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলী আংমো। এদিকে, সিজেপির এই সংসদ অভিযানকে সম্পূর্ণ ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে দিল্লি পুলিশ আগে থেকেই কোনো অনুমতি দেয়নি। যন্তর মন্তর সহ গোটা এলাকায় ১৬৩ ধারা বলবৎ থাকায় ৫ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নিরাপত্তার চাদরে মোড়া নতুন দিল্লি এলাকাকে মোট ১৫টি সিকিউরিটি জোনে ভাগ করা হয়েছে, যার প্রতিটি জোনের কড়া নিরাপত্তায় দায়িত্বে রয়েছেন স্পেশাল ও ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদার সিনিয়র অফিসাররা। দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF)-র ২৫টিরও বেশি ব্যাটালিয়ন কৌশলগত পয়েন্টগুলিতে মোতায়েন রয়েছে, যেখানে মহিলা কর্মীরাও সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। বিজয় চক, পার্লামেন্ট স্ট্রিট, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন, সেবা তীর্থ, ইন্ডিয়া গেট এবং রাষ্ট্রপতি ভবনের মতো হাই-সিকিউরিটি জোনগুলিতে জলকামান এবং দাঙ্গা বিরোধী ‘বজ্র’ গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সোনম ওয়াংচুক অনশন ভাঙার শর্ত হিসেবে শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা ফিরিয়ে আনার দাবি তুললেও, দিল্লির রাজপথে আজকের এই রক্তক্ষয়ী রাজনৈতিক সংঘাত এবং নজিরবিহীন প্রশাসনিক কড়াকড়ি জাতীয় রাজনীতিতে এক বিরাট আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।