‘আমাদের দলের লোকেরাই মানুষের বাঁচা মুশকিল করে দিয়েছে!’ জিতেন্দ্র তিওয়ারির হুঙ্কারে অস্বস্তিতে খোদ পদ্মশিবির

চাঁদা তোলা এবং জোরপূর্বক আর্থিক extortion-এর মতো গুরুতর অভিযোগে এবার নিজের দলের নেতাকর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধেই সরাসরি খড়্গহস্ত হলেন পাণ্ডবেশ্বরের বিজেপি বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি। প্রকাশ্যে জনসভা থেকে দলের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে মুখ খুলে তিনি এমন কিছু বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন, যা নিয়ে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতি এবং রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে। নিজ দলের কর্মীদের চরম ভর্ৎসনা করে বিজেপি বিধায়ক অত্যন্ত ক্ষোভের সুরে বলেন যে, দলের ভেতরে এখন আর কেউ প্রকৃত রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচিত হতে চাইছেন না, বরং প্রত্যেকেই যেন এক একজন পাকা ‘লেকশন মাস্টার’ বা তোলাবাজিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

পাণ্ডবেশ্বরের এই দোর্দণ্ডপ্রতাপ বিধায়ক প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে হুঙ্কার দিয়ে বলেন যে, সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকাই কঠিন করে তুলেছে দলেরই কিছু অসাধু লোক। অতীতে যারা অনৈতিকভাবে মাসে হাতেগোনা কয়েকটি কোয়ার্টার বা ঘর দখল করত, বর্তমান জমানায় তারা সপ্তাহে চারটে করে কোয়ার্টার দখল করছে। যত্রতত্র বলপূর্বক চাঁদা তোলা, স্থানীয় ঠিকাদারদের অকারণে হেনস্তা করা এবং বিভিন্ন উন্নয়নের কাজে বেআইনিভাবে কাটমানি বা পয়সা আদায়ের হিড়িক পড়ে গিয়েছে। এলাকার সমস্ত অবৈধ কারবারের খবর তাঁর কাছে এসে পৌঁছাচ্ছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, কোনো অনৈতিক কাজের সীমা থাকা উচিত। সন্ধ্যা নামলেই দল বেঁধে মদের আসর বসানোর যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা কঠোর হাতে দমন করা হবে। অতীতে যাঁরা অন্য দলের বিরুদ্ধে ঘর দখলের অভিযোগ তুলতেন, আজ দলের নিজস্ব লোকরাই সেই একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বলে কটাক্ষ করেন তিনি। আগামী দিনে এই ধরনের অপকর্ম বরদাস্ত করা হবে না জানিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, কাল থেকেই যদি এমন কোনো প্রমাণ তাঁর হাতে আসে, তবে সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত স্থানীয় কমিটি ভেঙে দেওয়া হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর ২০২৬ সালের এই পর্বে এসে জিতেন্দ্র তিওয়ারির এই ধরনের কঠোর অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে যখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বারবার সিন্ডিকেট রাজ ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়ে আসছেন, ঠিক সেই একই সময়ে খোদ ক্ষমতাসীন বা প্রভাবশালীদের অন্দরে এ ধরনের বেআইনি কার্যকলাপ নিয়ে দলেরই একজন বিধায়কের এমন প্রকাশ্যে মুখ খোলা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। দলীয় কর্মীদের বিরুদ্ধে এই ধরনের প্রকাশ্য বিদ্রোহ এবং কমিটি ভেঙে দেওয়ার আল্টিমেটাম আগামী দিনে সংগঠনের অভ্যন্তরে বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও প্রশাসনিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।