সংসদ অভিযানে মহিলা বিক্ষোভকারীকে চড়! বিতর্কের মুখে দায়িত্ব থেকে সরানো হলো দিল্লি পুলিশের এডিশনাল ডিসিপি-কে!

রাজধানী দিল্লিতে নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক অনিয়মের প্রতিবাদে আয়োজিত ‘চলো সংসদ’ অভিযানকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিক্ষোভ চলাকালীন এক নিরস্ত্র তরুণী আন্দোলনকারীকে প্রকাশ্যে চড় মারার অভিযোগ উঠেছে দিল্লি পুলিশের নর্থ ইস্ট ডিস্ট্রিক্টের অ্যাডিশনাল ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (DCP) সন্দীপ লাম্বার বিরুদ্ধে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় এবং নেটিজেনদের তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। জনরোষের মুখে পড়ে পুলিশ প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং ওই শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাকে অবিলম্বে যন্তর মন্তরের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়।

নিট কেলেঙ্কারির ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্ব পদত্যাগ এবং দেশে একটি স্বচ্ছ শিক্ষা ব্যবস্থা গঠনের দাবিতে গত সোমবার (২০ জুলাই) ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (CJP) আহ্বানে হাজার হাজার শিক্ষার্থী সংসদ অভিযানের উদ্দেশ্যে রাজপথে নামেন। এই প্রতিবাদ মিছিলে নিট কাণ্ডের কারণে আত্মহত্যা করা দুর্ভাগ্যজনক শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও সামিল হয়েছিলেন। তবে প্রশাসনিক অনুমতি না থাকার অজুহাতে মিছিলটি আটকানোর জন্য বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। অভিযোগ ওঠে, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস এবং নির্মম লাঠিচার্জ চালায়।

সংঘর্ষের এই উত্তপ্ত আবহেই ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, অ্যাডিশনাল ডিসিপি সন্দীপ লাম্বা এক আন্দোলনকারী তরুণীর সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং তাকে চড় মারেন। এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্তরে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সাকেত গোখলে অভিযুক্ত পুলিশ কর্তার বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে এফআইআর (FIR) দায়ের করেছেন। অন্যদিকে, দিল্লি হাইকোর্টে এই পুলিশি বর্বরতার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, নির্দিষ্ট আইনি নিয়ম লঙ্ঘন করে কীভাবে একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা একজন নিরস্ত্র মহিলার শরীরে আঘাত করতে পারেন?

উক্ত আবেদনের ভিত্তিতে দিল্লি হাইকোর্ট বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করেছে এবং দিল্লি পুলিশ, কেন্দ্র সরকার ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে (NHRC) কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে। আদালত একইসঙ্গে এই ঘটনার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ এবং ভিডিও রেকর্ডিং সুরক্ষায় রাখার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে। উল্লেখ্য, গত মে মাসে রসিকতার ছলে অভিজিৎ দিপকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গঠন করলেও, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করার পর থেকে এটি অভূতপূর্ব জনসমর্থন পায়। প্রখ্যাত পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকও শিক্ষার্থীদের দাবির সমর্থনে অনশনে বসেন এবং বর্তমানে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকা সত্ত্বেও তিনি তাঁর অনশন অব্যাহত রেখেছেন। পুলিশ কর্তার এই হিংসাত্মক আচরণ পুরো আন্দোলনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।