ভারতীয় রাজনীতিতে বিতর্কিত মন্তব্য করা তাঁর কাছে নতুন কিছু নয়। কিন্তু এবার সরাসরি নারী শক্তি এবং রাজনীতির ময়দানে মহিলাদের নিজস্ব পরিচিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে বিহারের পূর্ণিয়ার সাংসদ পাপ্পু যাদব। তাঁর দাবি, রাজনীতিতে নারীদের সাফল্য বা হাতেখড়ি আসলে পুরুষদের সাহায্য ছাড়া অসম্ভব। এই মন্তব্যের পরই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে নিন্দার ঝড়।
পাপ্পু যাদবের বিতর্কিত বয়ান
একটি জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় পাপ্পু যাদব বলেন, “রাজনীতিতে মহিলাদের যত বড়ই নাম হোক না কেন, তাদের রাজনৈতিক জীবন আসলে শুরু হয় পুরুষদের ঘরেই।” তিনি আরও যোগ করেন যে, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় পুরুষরা যখন কোনও কারণে নির্বাচনে দাঁড়াতে পারেন না, তখনই তাঁরা নিজেদের স্ত্রী বা বাড়ির মহিলাদের সামনে এগিয়ে দেন। তাঁর এই মন্তব্যকে অনেক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞই ‘পুরুষতান্ত্রিক আধিপত্যের’ প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।
প্রতিবাদের মুখে সাংসদ
পাপ্পু যাদবের এই মন্তব্যের পর বিজেপি এবং তৃণমূল সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মহিলা নেত্রীরা সরব হয়েছেন। তাঁদের দাবি:
রাজনীতির ময়দানে ইন্দিরা গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা সুষমা স্বরাজের মতো নেত্রীরা নিজেদের দক্ষতায় জায়গা করে নিয়েছেন।
পাপ্পু যাদবের এই মন্তব্য নারী সমাজকে অপমান করার পাশাপাশি সংবিধান প্রদত্ত লিঙ্গ সাম্যের অধিকারকে তুচ্ছ করার শামিল।
সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনরা প্রশ্ন তুলেছেন, ২০২৬ সালেও কেন একজন জনপ্রতিনিধির মানসিকতা এমন সংকীর্ণ থাকবে?
সাফাইয়ের চেষ্টা
বিতর্ক বাড়তে থাকায় পাপ্পু যাদবের ঘনিষ্ঠ মহল থেকে জানানো হয়েছে যে, তিনি আক্ষরিক অর্থে কোনও অপমান করতে চাননি। তিনি কেবল গ্রামীণ রাজনীতির বাস্তব প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে চেয়েছিলেন যেখানে অনেক সময় মহিলারা ছায়া-প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। তবে এই সাফাইয়ে সন্তুষ্ট নন অধিকার কর্মীরা।





