সংসদে চরম নাটক! সাসপেন্ড হয়েও একা প্ল্যাকার্ড হাতে রাস্তায় কল্যাণ, মমতার রহস্যজনক নীরবতায় বড় জল্পনা!

২৩ জুলাই, ২০২৬ অসংসদীয় আচরণ এবং মহিলা সাংসদদের বিরুদ্ধে অশালীন ভাষা প্রয়োগের অভিযোগে লোকসভার বাদল অধিবেশন থেকে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রিসাইডিং অফিসার কৃষ্ণপ্রসাদ তেন্নেতি জানান, কল্যাণের মন্তব্যে সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তবে এই সাসপেনশনের পরেও দমে যাননি প্রবীণ এই সাংসদ। বরখাস্ত হওয়ার ঠিক পরদিনই সংসদ ভবন চত্বরে একাই গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে অভিনব প্রতিবাদে সামিল হন তিনি।

প্ল্যাকার্ডে সরাসরি ‘গদ্দার’ নিশানা

বৃহস্পতিবার সংসদ চত্বরে কল্যাণের গলায় ঝোলা প্ল্যাকার্ড ঘিরে তৈরি হয় তীব্র চাঞ্চল্য। হিন্দিতে লেখা সেই প্ল্যাকার্ডে সরাসরি আক্রমণ শানানো হয় দলত্যাগী নেতাদের বিরুদ্ধে। সেখানে লেখা ছিল— “ভাজপাকে সাথ সদন মে, ২০ গদ্দার মওজুদ হ্যায়” (সংসদে বিজেপির সঙ্গে ২০ জন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ উপস্থিত রয়েছেন)।

প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে কল্যাণ সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “বিজেপি একা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কেই ভয় পায়। ওই গদ্দার ও বেইমানদের জন্যই আজ বিজেপির সাহস এত বেড়ে গিয়েছে।” এর আগে অধিবেশন মুলতবি হতেই প্রাক্তন তৃণমূল সহকর্মী তথা বর্তমান এনসিপিআই সাংসদ মিতালী বাগ, শতাব্দী রায় এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গেও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়ান তিনি।

মমতার নীরবতা ঘিরে রহস্য

বিধানসভা থেকে কুণাল ঘোষের সাসপেনশনের পর দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অথচ, কল্যাণের সাসপেনশনের ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

রাজনৈতিক মহলের মতে, ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে মমতার সঙ্গে প্রকাশ্যে বাদানুবাদ এবং তাঁর বিরুদ্ধে কল্যাণের ক্ষোভ উগরে দেওয়ার ঘটনার রেশ কাটেনি এখনও। এর মাঝেই মহুয়া মৈত্র এবং কুণাল ঘোষ কল্যাণের পাশে দাঁড়িয়ে সাসপেনশনকে “অনৈতিক” বলে দাবি করলেও, দলনেত্রীর এই নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এটি কি নিছকই মান-অভিমান, নাকি সম্পর্কে গভীর চিড় ধরেছে— সেই উত্তর ঘিরেই এখন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।