“সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কারই চাই!”-বাংলাদেশে রাজপথে নামছে জামাত নেতৃত্বাধীন জোট

বাংলাদেশে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিকে কেন্দ্র করে ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। সংসদে সমাধান না মিললে রাজপথেই ফয়সালা হবে বলে সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
কী বললেন জামাত প্রধান? গণভোটের রায়ের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা জনগণের দেওয়া রায় থেকে সরে আসব না। এই দাবি আজ হোক বা কাল, আদায় হবেই। ইনশাআল্লাহ। সংসদে যদি সমাধান না হয়, তবে সেই লড়াই হবে রাজপথে।” তিনি আরও স্পষ্ট করেন, তাদের দল অতীতের ‘বগলদাবা বিরোধী দল’-এর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের স্বার্থে গঠনমূলক ও প্রতিবাদী ভূমিকা পালন করবে।
সংবিধান সংশোধন বনাম সংস্কার: সংবিধান সংশোধনের জন্য সরকারি দলের প্রস্তাবিত কমিটিতে প্রতিনিধি না পাঠানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছে জামাত। শফিকুর রহমান বলেন, “জনগণের দাবি ছিল সংবিধান সংস্কার। গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ সেই পক্ষেই রায় দিয়েছে। আমরা সংসদের ভেতরে এসে এই রায় বদলাতে চাই না। সংস্কারের জন্য কমিটি করলে আমরা তা বিবেচনা করতে পারি, কিন্তু সংশোধনের নামে সময়ক্ষেপণ আমরা মেনে নেব না।” তিনি জানান, সংসদীয় রীতি মেনে বিলের ওপর আলোচনা হতে পারে, কিন্তু নতুন কোনো কমিটির প্রয়োজন নেই।
আন্দোলনের রূপরেখা: জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সরকারকে চাপে রাখতে দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক কর্মসূচির দিকে ঝুঁকছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলের জোট। সূত্রের খবর, আন্দোলনের পরবর্তী ধাপে রয়েছে:
সারা দেশে ব্যাপক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ।
জনমত গঠনে সভা, সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম।
প্রচারপত্র বিলি ও তৃণমূল পর্যায়ে গণসংযোগ।
রাজনৈতিক পটভূমি: গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছিল। বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করলেও জুলাই সনদের ৪৮টি প্রস্তাব বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ‘দ্বিতীয় শপথ’ নেওয়া নিয়ে বড় ধরনের বিভাজন তৈরি হয়েছে। জামাতসহ বিরোধী দলগুলি শপথ নিলেও বিএনপি সেই পথে না হাঁটায় রাজনৈতিক দূরত্ব আরও প্রকট হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, সংসদের ভেতর কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হলে বিরোধী জোটের এই ‘রাজপথের রাজনীতি’ আগামী দিনে বাংলাদেশে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, সরকার এই দাবিগুলো মেনে নেয়, নাকি রাজপথের আন্দোলনের মোকাবিলায় নতুন কোনো কৌশল নেয়।