দেশজুড়ে নির্বাচনী ডামাডোলের মাঝেই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিভি নাগারত্না। পটনার চাণক্য ন্যাশনাল ল’ ইউনিভার্সিটির একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পবিত্রতা বজায় রাখতে গেলে নির্বাচন কমিশনের (ECI) মতো প্রতিষ্ঠানগুলিকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হতে হবে। উল্লেখ্য, আগামী বছরই ভারতের প্রথম মহিলা প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন তিনি।
“শাসকের ওপর নির্ভরশীল হলে নিরপেক্ষতা অসম্ভব”
শনিবার প্রথম ‘ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ স্মৃতি বক্তৃতা’ অনুষ্ঠানে বিচারপতি নাগারত্না বলেন, “যারা নির্বাচন পরিচালনা করেন, তারা যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারীদের (রাজনৈতিক দল বা সরকার) ওপর নির্ভরশীল হন, তবে সেই প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।” তাঁর মতে, সাংবিধানিক পরিকাঠামো কেবল অধিকার দেয় না, সেই অধিকার রক্ষা করার জন্য নির্বাচন কমিশন, ক্যাগ (CAG) এবং অর্থ কমিশনের মতো স্তম্ভগুলিকে বলীয়ান হওয়া জরুরি।
কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো:
বাংলা সহ পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বিচারপতি নাগারত্নার মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গ ও কেরলের মতো রাজ্যগুলির সঙ্গে কেন্দ্রের সাম্প্রতিক সংঘাতের আবহে তিনি মনে করিয়ে দেন:
“ভারতীয় সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে রাজ্যগুলি সমমর্যাদাসম্পন্ন একক, তারা কেন্দ্রের অধীনস্থ নয়। ক্ষমতা যে উৎস থেকেই আসুক না কেন, তাকে সর্বদা জবাবদিহিতার আওতায় থাকতে হবে।”
আইনের শাসন বনাম আইনের দ্বারা শাসন:
বিচারপতি নাগারত্নার সুরেই সুর মিলিয়ে সুপ্রিম কোর্টের অপর বিচারপতি আহসানউদ্দিন আমানুল্লাহ বলেন, সাংবিধানিকতা টিকে থাকে ‘আইনের শাসন’-এর ওপর ভিত্তি করে, কেবল ‘আইনের দ্বারা শাসন’ করলেই গণতন্ত্র বাঁচে না।
বর্তমানে যখন পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে এবং কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধী দলগুলি, তখন সুপ্রিম কোর্টের এই শীর্ষ বিচারপতির মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।





